মেট্রোর ট্রেন বাড়ানোর ভাবনা চলছে, ছেড়ে যাওয়ার সময়ও কমানোর চিন্তা

 মেট্রোর ট্রেন বাড়ানোর ভাবনা চলছে, ছেড়ে যাওয়ার সময়ও কমানোর চিন্তা

উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু করার পর এ রুটে যাত্রী সংখ্যা বাড়তে থাকে। সকাল সাড়ে সাতটা থেকে রাত ৮টা এ পথ চালুর পর থেকে যাত্রী সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি এমন, পিকটাইমে কয়েকটি স্টেশনে যাত্রীদের লাইন লেগেই থাকছে। অতি ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

মেট্রোরেল চলাচলের সময় সাড়ে ১৩ ঘণ্টা। এ সময়ে বহু যাত্রী মেট্রো ব্যবহার করছেন। অফপিক টাইমেও ভিড় লেগে থাকে স্টেশনগুলোয়। কর্তৃপক্ষ বলছে, যাত্রীদের সুবিধা বাড়াতে তারা কাজ করছেন। এক সপ্তাহের মধ্যে ট্রেনের মধ্যবর্তী সময় কতটা কমিয়ে আনা যায় সেটিও ভেবে দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) মেট্রোরেলের কয়েকটি স্টেশন ঘুরে যাত্রী ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাংলানিউজ। এ প্রতিবেদকের মাধ্যমে সরকারের কাছে মেট্রোর ট্রেন ও কোচ সংখ্যা বাড়ানোর দাবি করেছেন বহু যাত্রী। ১০ মিনিটের স্থলে প্রতি ৫ মিনিট পর পর ট্রেনের দাবিও করেছেন তারা।

সকালে উত্তরা উত্তর থেকে, বিকেলে মতিঝিল ও বাংলাদেশ সচিবালয় থেকে যাত্রীদের ঢল ছিল উল্লেখযোগ্য।

বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয় স্টেশনে কথা হয় যাত্রীদের সঙ্গে। এ সময় মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম নামে এক যাত্রী বলেন, মতিঝিল থেকে মিরপুরে যাতায়াত আমার জন্য খুবই সহজ হয়েছে। মেট্রোয় ভিড় বাড়ছে। তাই সরকারের উচিৎ ট্রেন ও কোচ সংখ্যা বাড়ানো। ট্রেনে ছাড়া সময়ও কমিয়ে আনা প্রয়োজন। শুনেছি ৬টি ট্রেনের পরিবর্তে আটটি করা হবে। সেটি করলে যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড় কমতো।

শামীমা ইয়াসমিন বলেন, সকালে মিরপুর থেকে মতিঝিল অফিস সময়ে অতিরিক্ত ভিড়ে যাত্রীদের ট্রেনে উঠতে কষ্ট হয়। কাজিপাড়া, শ্যাওড়াপাড়া, মিরপুর ১০ থেকে অনেক সময় যাত্রীরা টেনে উঠতেও পারে না। যাত্রীদের সুবিধার্থে ৫ মিনিট পরপর ট্রেন দেওয়ার সময় হয়ে গেছে। এটি সরকারের জন্য লাভজনকও বটে।

আবদুল্লাহ আরেফিন নামে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বলেন, প্রতিদিন উত্তরা থেকে মতিঝিল ও মতিঝিল থেকে উত্তরা যাতায়াত করছি। সকালে ট্রেনে ওঠা আমার জন্য সহজ। যাওয়ার বেলায় কিছুটা সমস্যা ভোগ করি। এত সুন্দর ও সহজ যাতায়াত এ রুটের সব যাত্রীর জন্য প্রয়োজন। এ জন্য ট্রেন ও কোচ সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন।

অন্যান্য যাত্রীরা বলেছেন, এমআরটি বা র‌্যাপিড কার্ড যারা নিয়েছেন, তাদের জন্য ট্রেনে ওঠা সহজ। বিপদ শুধু সাধারণ যাত্রীদের। যারা এ দুটি কার্ড করতে পারছেন না বা যারা মাত্র একবার ভ্রমণ করতে চান তাদের সমস্যা হচ্ছে। টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে সময় পার হয়ে যায়। যে কাজের জন্য স্বল্প সময়ে গন্তব্যে যাওয়ার ইচ্ছা থাকে সেটি পূরণ হচ্ছে না। মেট্রো এখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। তাই সরকারের উচিত এ দিকটায় আরও ভালোভাবে নজর দেওয়া। আমাদের দাবি, দ্রুত মেট্রোর ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হোক। অথবা কোচ সংখ্যা বাড়ানো হোক।

যাত্রীদের এমন দাবির প্রসঙ্গে কথা হলে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইন্টেন্যান্স) নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের চিন্তাভাবনা রয়েছে। তবে টেকনিক্যাল সব বিষয় ঠিকঠাক করে সুবিধা নিশ্চিতে আরও বছরখানেক সময় লাগবে।

একই ধরণের কথা বলেছেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশন) মোহাম্মদ ইফতিখার হোসেন। তিনি বলেন, আমরা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি। কোচ আর ট্রেন চলাচল বৃদ্ধির বিষয়ে আমরা কাজ করছি। এটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার, তারপরও অন্যান্য দেশের আগে আমরা দীর্ঘ সময়ের জন্য চালু করেছি।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে মেট্রো ট্রেন চলাচলের মধ্যবর্তী সময়টা কতটা কমিয়ে আনা যায় সেটা নিয়ে আমাদের টিম কাজ করছে। সার্ভে করে আমরা দেখবো কী করা যায়।


মন্তব্য