সেতুতে উঠতে বাঁশের সাঁকো!

সেতু
  © সংগৃহীত

সেতু আছে তবে নেই সংযোগ সড়ক। সেতুতে চলাচলের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বাঁশের সাঁকো। এই দৃশ্যটি কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া ইউনিয়নের। এলাকাবাসীর অভিযোগ সেতু নির্মাণের সাত বছর পেরিয়ে গেলেও তৈরি হয়নি সেতুতে উঠা নামার দুদিকের সংযোগ সড়ক।

কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া ইউনিয়নে সিংহ নদীর খালের উপর নীলটেক পাকা রাস্তা থেকে পূর্ব আকছাইলে পাশাপাশি দুটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। এটি নির্মাণ করা হয় অধিদপ্তরের সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায়। একটি নির্মাণ করা হয় গত অর্থবছরে। আরেকটি ২০১৫—১৬ অর্থবছরে। দুটির নির্মাণ ব্যয় ছিল ৩২ লাখ টাকা।

জানা যায়, অসম্পূর্ণ অবস্থাতেই সম্পূর্ণ হয় সেতু দুটি। পরবর্তীতে এলাকাবাসী নিজস্ব অর্থায়নে পুরোনো সেতুর দুই প্রান্তে মাটি ফেলে সংযোগ সড়ক তৈরি করে হেঁটে চলার ব্যবহারযোগ্য করে তুললেও ছোট যান চলাচল করা যায় না।

স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, প্রায় দেড় বছরের মতো হয়ে গিয়েছে। সরকারি কাজ বুঝেন তো, করে তো করি না, ধরে তো ধরি না। এই ব্রিজটা দেওয়া মূলত স্কুল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য। কি বলবো কিছু বলারও নাই, পোলাপান কি কষ্ট করে। গত বছর যাবৎ কাজ হওয়ার পরেও এভাবেই ফেলে রাখসে। আমরা খুবই কষ্টের মধ্যে আছি এটা নিয়ে।

তিনি আরও বলেন, এলাকার চেয়ারম্যানের কাছেও আমরা বলেছি তবে আমরা সাধারণ পাবলিক, আমাদের জন্য তারা কিছু করে না। একটা মানুষ যদি মারা যায় লাশটা নিয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নাই এখান দিয়ে। সরকারি জিনিস সরকার যদি আমাদের এই কষ্ট না দেখে তাহলে আমাদের কষ্ট কে দেখবো? খালের ওইপারে স্কুলের সঙ্গে একটা সরকারি হাসপাতাল আছে। আর কবরস্থান তো আছে কিন্তু আমরা লাশ নিয়া যেতে পারি না। একটা মানুষ মারা গেলে ভ্যান দিয়ে অনেক দূর ঘুরে এরপর যেতে হয়। দুইটা ব্রিজ এর একটায় আমরা নিজস্ব অর্থায়নে মাটি ফেলেছি। মাটি সরে গেলে আমরা পুনরায় দুই গাড়ি মাটি এনে এখানে ফেলেছি।

আরেক বাসিন্দা জান্নাতুল অনিক জানান, পশ্চিম পাশে আরেকটি ব্রিজ হয়েছে তবে এই নতুন ব্রিজটা গুরুত্বপূর্ণ বেশি। তারা ব্রিজ করে দিয়েছে কিন্তু পিলার উঠিয়ে যদি ছাদ না উঠায় তাহলে তো পিলারের কোনো মূল্য রইলো না। মাদ্রাসা, স্কুল ও মহল্লার প্রতিবেশীদের খুবই কষ্ট হচ্ছে উঠা নামা করতে।

পুরোনো সেতুটির ঠিকাদার কোম্পানি মেসার্স সানজীব এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সানজীব ইসলাম বলেন, আমাদের কাজ শুধু ব্রিজ করা। আট বছর আগে ওটার সংযোগ সড়ক ছিল, সবই ছিল। এরপরের কাজ তো ইউনিয়ন পরিষদের।

কলাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাহের আলী  জানান, নতুন ব্রিজটা গত অর্থবছরের। এটার কাজ অল্প কিছুদিনের ভেতরেই শেষ করা হবে। গতকাল জেনেছি কিছুদিনের ভেতরে ঠিকাদার সংযোগ সড়ক তৈরি করে দেবেন।

২০১৫/১৬ অর্থ বছরের সেতুটির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা অনেকবার মাটি ফেলেছি। মাটি নেমে চলে যায়। মাটি ধরে রাখতে হলে বিশাল দেয়াল নির্মাণ করতে হবে যা আমার পক্ষে সম্ভব না। 


মন্তব্য


সর্বশেষ সংবাদ