সংসদের কোন আসনে কে বসবেন; যা হবে দ্বাদশ সংসদের প্রথমদিনে

জাতীয়
জাতীয় সংসদ ভবন  © ফাইল ফটো

আজ শুরু হচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। এরই মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য আসন বণ্টনও হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার ( ৩০ জানুয়ারি ) বিকেল ৩টায় শুরু হবে এ অধিবেশন।

সংসদের স্পিকারের জন্য নির্ধারিত আসনের ডানে সরকার দলীয়রা বসেন। একে ট্রেজারি বেঞ্চ বলা হয়। আর বাম দিকে বসেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। সংসদ সদস্যদের মধ্যে কে কোন আসনে বসবেন তার ওপর ওই নেতার দলে অবস্থান, রাজনীতির দীর্ঘ ক্যারিয়ার, কতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তা নির্ভর করে। তবে সংসদ নেতা-উপনেতা, বিরোধীদলীয় নেতা-উপনেতা এবং সরকারি দল ও বিরোধী দলের চিফ হুইপের বসার আসন সব সময় নির্ধারিত থাকে।

জাতীয় সংসদের সাড়ে তিন শ সংসদ সদস্যের জন্য বসার স্থান রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম সারিতে আছে ২৯টি আসন। এর মধ্যে স্পিকারের ডান পাশে ট্রেজারি বেঞ্চে ১০টি এবং বাম পাশে ১০টি আসন রয়েছে। আর স্পিকারের সামনে ৯টি আসন রয়েছে।

জাতীয় সংসদের ডান ও বাম পাশের এই ১০টি আসনে বসাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৮ সালে বিএনপি মাত্র ২৯টি আসনে জয় পেয়েছিল। সে সময় বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তখন বাম পাশের এই ১০টি আসন বিএনপির জন্য না দেওয়ায় দলটি অধিবেশন পর্যন্ত বর্জন করেছিল। তাই আসন বণ্টন সব সময়ই গুরুত্ব পায়। তখন অবশ্য বলা হয়েছিল সামনের সারির ২৯ আসন আনুপাতিক হারে বরাদ্দ দিলে বিএনপির পাওয়ার কথা মাত্র তিনটি আসন। কিন্তু বিএনপিকে ৮টি আসন দেওয়া হয়েছে। যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে বাম পাশের ১০টি আসনই বিরোধী দলের জন্য।

অবশ্য সংসদে সামনের সারিতে কারা বসবেন সে ব্যাপারে সুষ্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। মূলত স্পিকার ও চিফ হুইপ মিলে এটি ঠিক করেন।

এবার দ্বাদশ সংসদে বিরোধী দল অর্থাৎ জাতীয় পার্টি নির্বাচনে জয়ী হয়েছে মাত্র ১১টি আসনে। বাকিরা সবাই আওয়ামী লীগের বা তাদের জোটের। এমনকি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরাও কোনো জোট না করায় তারা সরকারদলীয়দের সঙ্গেই থাকছেন।

এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জিতেছে ২২৩টি আসনে, স্বতন্ত্রদের আসন ৬২টি। বাকি তিনটি আসন যথাক্রমে ওয়ার্কার্স পার্টি, কল্যাণ পার্টি ও জাসদের। আনুপাতিক হারে হলে সামনের সারিতে আওয়ামী লীগের ২২ জন, স্বতন্ত্রের ৬ জন এবং জাতীয় পার্টির একজন সংসদ সদস্যের বসার কথা। অবশ্য সেটা করা হয়নি।

কে কোথায় বসবেন

সরকারি দলের প্রথম সারিতে প্রথম আসনে বসবেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর পাশের আসনটি সংসদ উপনেতা বেগম মতিয়া চৌধুরী এবং তার পরের আসনটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে শেখ ফজলুল করিম সেলিমকে। এরপর থাকছেন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, কৃষিমন্ত্রী আবদুস শহীদ, সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আর প্রধানমন্ত্রীর আসনের পেছনে দ্বিতীয় সারির প্রথম আসনটি সরকারি দলের চিফ হুইপ নুর-ই- আলম চৌধুরীর।

বামপাশের প্রথম সারির প্রথম আসনটি বিরোধীদলীয় নেতার আসন। সেখানে  জিএম কাদের বসবেন। এর পাশে বসবেন উপনেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। সামনের সারিতে জাতীয় পার্টিকে আরও একটি আসন দেওয়া হয়েছ। অর্থাৎ বিরোধীদলীয় উপনেতার পাশের আসনটিতে বসবেন রুহুল আমিন হাওলাদার। তার পরের তিনটি আসনে বসবেন আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ও মন্ত্রী বর্তমানে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। এরপর বসবেন কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম ও ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন। বিরোধীদলীয় নেতার পেছনের সারির প্রথম আসনে বিরোধী দলের চিফ হুইপ মজিবুল হক বসবেন।

সামনের সারির বাকি আসনগুলোতে সরকারি দলের ও স্বতন্ত্র জ্যেষ্ঠ নেতাদের জন্য রাখা হয়েছে। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা মূলত বাম দিকে আসনগুলোতে জায়গা পাবেন।

সংসদে যা হবে

আজ অধিবেশনের প্রথম দিনে সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বর্তমান স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ও ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুকে একই পদে মনোনীত করেছে। ফলে তারা আবারও নির্বাচিত হবেন।

রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদের প্রথম বৈঠকে ভাষণ দেবেন। প্রথম অধিবেশন সংসদ থেকে সরাসরি দেখার জন্য বিদেশি কূটনীতিকসহ বিশিষ্টজনদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সংসদে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদীয় কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠক হবে। এতে অধিবেশনের কার্যকাল ও আলোচ্যসূচি ঠিক করা হবে।

অধিবেশনকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ এক বিজ্ঞপ্তিতে এই এলাকায় যান চলাচল সীমিত করেছে।

তথ্য: itvbd


মন্তব্য