বাসাবাড়িতে আর গ্যাস সংযোগ নয়: গণপূর্তমন্ত্রী

গ্যাস
  © সংগৃহীত

পাইপলাইনে বাসা-বাড়িতে আর গ্যাস দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি। তিনি বলেছেন, গ্যাস যা পাওয়া যাবে- তা শিল্পায়ন, সারকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা হবে।

শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা পরিষদ মাঠে তাঁকে দেওয়া গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন মন্ত্রী। মোকতাদির চৌধুরী গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ায় তাঁর নির্বাচনী এলাকাধীন বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগ এই সংবর্ধনার আয়োজন করে।

গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে কলকারখানা ছাড়া কোথাও গ্যাস দেওয়া হবে না। পাইপলাইনের গ্যাস আর সিলিন্ডারের গ্যাস ব্যবহার একই। পার্থক্য শুধু দামে। ঘরে-ঘরে গ্যাস আমরা দিয়ে দিয়েছি। সিলিন্ডার কিনেন এবং গ্যাস ব্যবহার করেন। ভবিষ্যতে আমরা যা গ্যাস পাব- তা শিল্পায়ন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করব।’

সাবেক দুই সেনাশাসক জিয়াউর রহমান ও এরশাদের শাসনামলে রেল প্রায় উঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে গৃহায়ন মন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকার আসার পরে সারাদেশে রেলের ব্যাপ্তি হয়েছে। আগে আমরা পড়তাম রেলপথ নেই কোন জেলায়! এটি আর এখন হবে না। সব জেলায় রেলপথ আছে।’

বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম ভূইয়ার সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী এবং গৃহায়ন মন্ত্রী মোকতাদির চৌধুরীর স্ত্রী ও ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ট্রেজারার ফাহিমা খাতুন প্রমুখ।

এদিকে একই দিন এক মতবিনিময় সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচন আসলেই যারা নানান অজুহাতে নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন তাঁদের আওয়ামী লীগ করবার দরকার নেই। তাঁরা আল্লাহর ওয়াস্তে স্বেচ্ছায় আওয়ামী লীগ ছেড়ে দিলে খুব ভালো হয়। তবে গত নির্বাচনে যারা আমার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই।

মন্ত্রী আজ দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান ও সাবেক কমিটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিয় করেন।

এই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোকতাদির চৌধুরী বলেন, ‘কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই জেলা পরিষদের উপনির্বাচন ও আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে আমরা একক প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করব।’

মন্ত্রী আওয়ামী লীগকে উপজেলা ও পৌর এলাকার ওয়ার্ড পর্যায় থেকে সম্মেলন করে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনে গতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সম্মেলন করার প্রতি তাগিদ দেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মো. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগ ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু, সহসভাপতি হাজি মো. হেলাল উদ্দিন, পৌর মেয়র নায়ার কবীর, পিপি অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম খোকন, পৌর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, জেলা যুবলীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহানুর ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌস, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাসলিমা সুলতানা খানম নিশাত ও জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল।


মন্তব্য