টাঙ্গাইল শাড়ি শিগগির বাংলাদেশের জিআই স্বীকৃতি পাবে: শিল্প মন্ত্রণালয়

টাঙ্গাইল শাড়ি
  © সংগৃহীত

বাংলাদেশের বিখ্যাত টাঙ্গাইল শাড়ির উৎস পশ্চিমবঙ্গ-এমনটা দাবি করেছে ভারতীয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। বিতর্কিত দাবিটি মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল পেজে একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে করা হয়েছিল, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়।

পোস্টে দাবি করা হয়, “টাঙ্গাইল শাড়ি, পশ্চিমবঙ্গ থেকে উদ্ভূত একটি ঐতিহ্যবাহী হাতে বোনা মাস্টারপিস। সূক্ষ্ম উপস্থাপন, প্রাণবন্ত রং এবং জটিল বুননের জন্য শাড়িটি বিখ্যাত, এটি এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক। প্রতিটি টাঙ্গাইল শাড়ি দক্ষ কারুকার্যের প্রমাণ; এটি ঐতিহ্য এবং কমনীয়তাকে একত্রিত করে।“

দেশটির সরকারি দপ্তরের এমন দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তুলেছে। মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। বাংলাদেশে এটা নিয়ে বিক্ষোভও করেছে অনেকেই।

এবার টাঙ্গাইলের শাড়ি খুব শিগগির ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের সনদ পাবে বলে জানিয়েছেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাকিয়া সুলতানা। এ পণ্যের জিআই স্বীকৃতির জন্য আবেদন প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি। এই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পাদনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়িকে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি ও নিবন্ধন দেওয়া হবে।

সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি সংক্রান্ত এক জরুরি সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

সভায় শিল্প মন্ত্রণালয় এবং পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের (ডিপিডিটি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

শিল্পসচিব বলেন, টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি ছাড়াও মধুপুরের আনারস, নরসিংদীর লটকন, সাগর কলা, ভোলার মহিষের কাঁচা দুধের দই জিআই পণ্যের স্বীকৃতির জন্য যেসব আবেদন অনিষ্পন্ন আছে তা দ্রুত সম্পাদন করতে হবে। এ বিষয়ে কোনো গাফিলতি গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ২১টি পণ্য বা বস্তুকে জিআই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। দেশের ৬৪টি জেলা থেকে এক বা একাধিক পণ্য বা বস্তু খুঁজে বের করে আবেদন করার জন্য দুই মাস সময় দিয়ে জেলা প্রশাসকদের অনুরোধ করা হয়েছে। জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতির পর এগুলোকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষে থেকে ব্র্যান্ডিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সভায় টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক জানান, টাঙ্গাইল শাড়ির জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধনের আবেদন যথাযথভাবে ডকুমেন্টেশন করে দু-একদিনের মধ্যে জমা দেওয়া হবে। এরই মধ্যে আবেদন ফি প্রদানের পে-অর্ডার করা হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, এরই মধ্যে ভারত টাঙ্গাইল শাড়িকে তাদের জিআই পণ্য ঘোষণা করায় আমরা আইনগত বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা করছি। আলোচনার মাধ্যমে বা ডিসপিউট সেটেলমেন্টের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানে পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে বিশ্ব মেধাসম্পদ সংস্থা বা ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশনে (ডাব্লিউআইপিও) আপত্তি জানানো হবে।


মন্তব্য