শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকায় মধুদা সহ আরও ১১৮ জন

জাতীয়
  © সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে অনুষ্ঠিত মধুর ক্যান্টিনের মধুসূদন দে শহীদ বুদ্ধিজীবীর স্বীকৃতি পেয়েছেন। মূলত তিনি ছিলেন একজন চা দোকানি। কিন্তু পর্যায়ক্রমে এই চা দোকানি নিজেকে স্বাধিকার আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের ভূমিকার সঙ্গে যুক্ত করে নেন। ছাত্রদের কর্মসূচি থেকে শুরু করে নানাভাবে তিনি সহযোগিতা করেন।

রবিবার (২৪ মার্চ) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল চতুর্থ ধাপে এই ১১৮ জন বুদ্ধিজীবীর তালিকা প্রকাশ করেন। তাতে নাম আছে মধুর ক্যান্টিনের মধুসূদন দের। এ নিয়ে চার দফায় ৫৬০ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকা প্রকাশ করা হল।

চতুর্থ দফার শহীদ বুদ্ধিজীবী তালিকায় ৩ জন সাহিত্যিক, একজন বিজ্ঞানী, একজন চিত্রশিল্পী, ৫৪ জন শিক্ষক, ৪ জন আইনজীবী, ১৩ জন চিকিৎসক, ৩ জন প্রকৌশলী, ৮ জন সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারী, ৯ জন রাজনীতিক, ১৩ জন সমাজসেবী রয়েছেন। এছাড়া সংস্কৃতিসেবী এবং চলচ্চিত্র, নাটক, সংগীত এবং শিল্পকলার অন্যান্য শাখার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৯ জন ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকায়

তালিকা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকার ক্ষেত্রে আমরা দু-এক জায়গায় ব্যতিক্রম করেছি। যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুদা, যিনি শিক্ষক, লেখক ও গবেষক নন‌। তবে এমন‌একজন মানুষ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই তাকে চেনেন। দেশের স্বাধীনতা সংক্রান্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক যত আন্দোলন হয়েছে, সবগুলোতেই তার ভূমিকা ছিল।

মন্ত্রী বলেন, তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এমন কিছু ব্যক্তির নাম বিশেষ বিবেচনায় রাখা হয়েছে। মধু দা সাধারণ একজন চায়ের দোকানদার ছিলেন। প্রশ্ন উঠতে পারে তিনি আবার বৃদ্ধিজীবী হয় কী করে। দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে উনি যত নেতাকর্মী দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন, উনি তাদের সহযোগিতা করেছেন। বিনা পয়সায় চা খাইয়েছেন। মিটিং মিছিল করে সহযোগিতা করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত তার একটা সনদও আছে, যেখানে বঙ্গবন্ধু তাকে (মধু দা) বুদ্ধিজীবী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

তালিকায় মধুসূধন দে বা মধুদার বাবার নাম লেখা হয়েছে আদিত্ত্ব চন্দ্র দে, মায়ের নাম লেখা হয়েছে যোগমায়া দে। গ্রাম বা মহল্লা-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, থানা-রমনা, জেলা-ঢাকা।

জানা যায়, বঙ্গবন্ধু থেকে শুরু করে সব ছাত্রনেতাই মধুর ক্যান্টিনে বসে রাজনৈতিক কাজকর্ম চালাতেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে পাকিস্তান-পর্বে তার রেস্তোরায়ঁ অনেক আন্দোলন-সংগ্রামের পরিকল্পনা হয়েছে। এ কারণে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর শত্রুতে পরিণত হন তিনি। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্থানি হানাদার বাহিনী তাকে জগন্নাথ হল থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং সেই রাত্রেই হত্যা করে।

প্রসঙ্গত, প্রথমে ২০২১ সালের ৭ এপ্রিল ১৯১ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ২০২২ সালের ২৯ মে দ্বিতীয় তালিকায় ১৪৩ জন এবং সর্বশেষ গত ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হয় আরও ১০৮ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকা


মন্তব্য