এবারের ঈদযাত্রায় মহাসড়কে ভোগান্তির ভয়

ঈদযাত্রা
  © ফাইল ছবি

সড়কপথে ঈদযাত্রায় ছয় মহাসড়কে দুর্ভোগের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এবং ঢাকা বাইপাস সড়কে ১৫টি যানজটের স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। উত্তরের ১৬ জেলার যাত্রীদের জন্য বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর অংশে ১৭ কিলোমিটার সড়ক নিয়ে দুঃশ্চিন্তা যেন কাটছেই না। দক্ষিণে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের সাত কিলোমিটার অংশ বেহাল থাকায় ঘরে ফেরা মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হবে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের করিডোর খ্যাত টঙ্গীতে ছয় স্থানে হতে পারে দুর্ভোগ। আর তিন কারণে টাঙ্গাইলে ১৩ কিলোমিটার পথে ভোগান্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় নিরাপদ ঈদযাত্রায় সাতটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ২১ মার্চ ঈদ প্রস্তুতি সভায় এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বৈঠকে ঈদযাত্রায় যানজট কমাতে সেতুগুলোতে টোল ফ্রি করার প্রস্তাব দেন বিভিন্ন সেক্টরের প্রতিনিধিরা। সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো হলো- সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো ঈদের দিনসহ এর আগের ৭ দিন এবং পরের ৫ দিন সার্বক্ষণিক খোলা রাখা। যানজটমুক্ত যাতায়াতের সুবিধার্থে গার্মেন্টসসহ সব শিল্পকারখানার শ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়া। ঈদের আগের ৩ দিন ও পরের ৩ দিন মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ রাখা। জাতীয় মহাসড়ক ও করিডোরগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত ঈদের ৭ দিন আগে সম্পন্ন করা। সারা দেশে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের (সওজ) পক্ষ থেকে যানজটের ১৫৫টি স্পট ঈদের আগে এবং পরে মনিটরিংয়ের আওতায় আনা। এ ছাড়া পণ্য পরিবহনকারী যানবাহনে যাত্রী বহন না করা, নির্দিষ্ট ২২টি সড়ক-মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা।

অন্যদিকে সওজের পক্ষ থেকে সারা দেশে মহাসড়কগুলোতে যানজট প্রবণ ১৫৫টি স্পটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ মহাসড়কের ১২২টি স্পটে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি সব সিদ্ধান্ত কার্যকর করা ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে কেউ বাস, লঞ্চ কিংবা ট্রেনে বাড়তি ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। এমনকি সড়কে চাঁদাবাজি হলে প্রয়োজনে ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে সহযোগিতা চাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

মহা দুশ্চিন্তার কারণ রূপগঞ্জে দুই মহাসড়কের ১৫ স্পট:
ঈদযাত্রা শুরুর আগেই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ঢাকা বাইপাস সড়কে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন যাত্রীরা। আটকা পড়েছে যাত্রাবাহী ও মালবাহী বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। গতকাল শনিবার বেলা ১১টা থেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান বাইপাস সড়কের রূপগঞ্জ অঞ্চলে এ যানজটের চিত্র দেখা গেছে। দুই মহাসড়কে স্থানে স্থানে খানাখন্দ ও সংস্কার কাজের জন্য ভেকু দিয়ে খোঁড়া গর্তগুলোতেও দুর্ঘটনা কবলে পড়ছে যানবাহন। আবার ঢাকা বাইপাস সড়কে ৮ লেনে উন্নীতকরণ কাজের কারণে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে ঘরে ফেরা মানুষেরা ভোগান্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এবার ঈদ যাত্রাতেও এ দুই মহাসড়কের ১৫টি স্পটে যানজটের স্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা। ঢাকা বাইপাস সড়ক দিয়ে ময়মনসিংহ, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, কুড়িগ্রাম, টাঙ্গাইল, পাবনা, টঙ্গীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যানবাহন চলাচল করে থাকে। বিপুল পরিমাণ যানবাহন চাপে এ মহাসড়কটিতে যানজট লেগেই থাকে।

চালকদের অভিযোগ, কাঞ্চন সেতু টোল প্লাজায় টোল গ্রহণে ধীরগতি, এশিয়ান বাইপাস সড়কের ৮ লেনে উন্নীতকরণ, গাড়িগুলোর যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা যানজটের অন্যতম কারণ। এ ছাড়া এ সড়কে প্রসস্ততা বাড়ানোর জন্য কাজ করছে সওজ। এ নির্মাণকাজের কারণে সড়কে ব্যবহৃত মালামাল আনা-নেওয়া ও সড়কে দুপাশে মালবাহী গাড়ি রাখায় এ সড়কে চলাচলকারী যানবাহন পড়তে হচ্ছে যানজটে।

অপরদিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কটি দেশের অন্যতম ব্যস্ততম মহাসড়ক। এ সড়কটি দিয়ে সিলেট, ভৈরব, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন জেলার প্রতিদিন শত শত দূরপাল্লার মালবাহী ট্রাক, বাস ও অন্যান্য গণপরিবহন চলাচল করে। অবৈধ বাস স্ট্যান্ড, ফুটপাত দখল, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানো, নিয়ম ভঙ্গ করে গাড়ি চালকদের বিপরীত রুটে গাড়ি চলাচল, সড়ক প্রশস্ততা কম হওয়া, দুর্ঘটনা, গাড়ি বিকল হওয়া যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করেন এলাকাবাসী। রূপসী বাসস্ট্যান্ড দিয়ে সিটি গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানির ট্রাক রূপসী-কাঞ্চন সড়ক দিয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া প্রয়োজনের তুলনায় এখানে পুলিশের সংখ্যা একেবারেই কম। অল্প কিছু পুলিশ সদস্য দিয়ে যানজট নিরসনের কাজ করানো হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, ভুলতা ফ্লাইওভার এলাকায় বলাইখায় বাস স্টপেজ দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা পাকা স্থাপনা গড়ে তুলেছেন। এতে স্বাভাবিক যানচলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ভুলতা হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আশরাফ উদ্দিন কালবেলাকে বলেন, ঈদে ঘরমুখী মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারেন সে জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। মহাসড়কে নির্মাণকাজ চলায় কিছুটা ভোগান্তি হচ্ছে। ঈদের চার-পাঁচ দিন আগে থেকে কাজ বন্ধ করে দিলে সড়কে চলাচল অনেকটা সহজ হবে।

ভয় কাটছে না বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়কে:
ঈদযাত্রায় সাভারের ব্যস্ততম বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়কের ওপর দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীদের ভোগান্তির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সওজ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সড়কটি দিয়ে দেশের উত্তরবঙ্গের প্রায় ১৬টি জেলার লাখো মানুষ চলাচল করে; কিন্তু সড়কটিতে স্বাভাবিক যান চলাচল বর্তমানে অনেকটাই ব্যাহত সড়কজুড়ে খান্দ-খন্দের কারণে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যস্ত এই সড়ক খানাখন্দে ভরা। অল্প বৃষ্টি হলেই সড়কের জামগড়া, জিরাবো ও ইউনিক এলাকায় জমে হাঁটু পানি। এসব কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে এ সড়ক ব্যবহারকারীদের।

বাইপাইল মোড়ে আশুলিয়া হয়ে ঢাকার আব্দুল্লাহপুর, উত্তরাসহ বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাস, ট্রাক, লেগুনাসহ বিভিন্ন পরিবহন জটলা করে সড়কের ওপর দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। অটোরিকশাগুলো এলোমেলোভাবে সড়কে চলাচল করছে। ট্রাফিক পুলিশের নিষেধাজ্ঞা মানছে না কেউই। যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং করে রাখায় কিছু দূর যাওয়ার পরই যানজট দেখা দিচ্ছে। আর এতে ৩০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা।

যাত্রীরা জানিয়েছেন, এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিনই গার্মেন্টস কর্মীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচল; কিন্তু সড়কটির এই বেহাল দশার জন্য এখান দিয়ে যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারে না। প্রতিদিনই যানজটে আটকে থাকতে হয়। আর আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে সড়কটিতে যানবাহনের চাপ আরও দুই থেকে তিনগুণ বাড়বে। তখন সড়ক ব্যবহাকারীদের চরম ভোগান্তিতে পরতে হবে। তাই ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে দ্রুত সড়কগুলো মেরামত করার দাবি তাদের।

বর্তমানে সড়কটি ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের অধীন। এ বিষয়ে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ঈদে ঘরমুখী মানুষের নির্বিঘ্নে যাতায়াতের জন্য ঈদের অন্তত পাঁচ দিন আগে থেকে আমরা কার্যক্রম বন্ধ রাখব। পাশাপাশি সেসময় আমাদের কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ৬০ জন কর্মী ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি সড়কের শৃঙ্খলা বজায়ে রাখতে কাজ করবে। তবে সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালকদের সড়ক আইন মানার ব্যাপারে অনীহার কারণে কিছুটা দুর্ভোগের সৃষ্টি হয় সেটি নিরসনের জন্য আমরা ট্রাফিক বিভাগকে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাব।

খানাখন্দে ভরা ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক:
দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশপথ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট। আর এ ঘাট দিয়েই ঈদে দক্ষিণের ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তির কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন যাত্রী ও চালকরা। দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে খানাখন্দে ভরা। আর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের পরে মহাসড়ক সংস্কারের কাজ করা হবে।

সংস্কারের অভাবে ও সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে মহাসড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচলে ঘটছে দুর্ঘটনা। উঁচু-নিচু ঢালু ও খানাখন্দে পরিণত হয়েছে মহাসড়ক। ফেরি থেকে যানবাহন নামার পর ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে চলাচলে প্রতিনিয়ত চালকরা পড়ছেন দুর্ভোগে। মূলত দৌলতদিয়া ঘাট থেকে গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে হতাশার কথা জানিয়ে রাজবাড়ী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (সওজ) মো. নওয়াজিস রহমান বিশ্বাস বলেন, ঈদের আগে মহাসড়কটি সংস্কার করা সম্ভব হবে না। ঈদের মধ্যে যানবাহন যাতায়াত যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য আমাদের যে কাজগুলো আছে সেগুলো চেষ্টা করব। ঈদের পরে সংস্কারের কাজ করা হবে। তবে ঈদে ঘরমুখো মানুষের চলাচলের উপযোগী করা হবে।

এদিকে ঈদযাত্রায় তিন কারণে টাঙ্গাইলে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার মহাসড়কে ভোগান্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে- ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের এলাঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকা পর্যন্ত এই সাাড়ে ১৩ কিলোমিটার ৬ লেনের চলমান কাজসহ মাঝে মাঝে সেতুর ওপর অতিরিক্ত গাড়ির চাপ। এতে টোল আদায়ে সমস্যা দেখা দেয়। সাময়িক টোল বন্ধ থাকায় ভোগান্তির কারণ। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশে ও ভুঞাপুর রোডের রেলক্রসিং থাকায় যানজটের একটি বড় কারণ।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত একমুখি যানবাহন চলাচল করা হবে। এবার ঈদে গাড়ির চাপ কমাতে শুধু উত্তরাঞ্চলগামী যানবাহনের জন্য মহাসড়কের এ অংশটি বরাদ্দ থাকবে। ঢাকাগামী যানবাহন বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে গোলচত্বর দিয়ে ভুঞাপুর হয়ে এলেঙ্গা প্রবেশ করবে। এতে করে যানজট অনেকটা কমে যাবে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য যাত্রীরা যানজটে আটকা পড়লে মহাসড়কের পাশে পেট্রোল পাম্প, হোটেল রেস্তোরাঁগুলোতে যাতে শৌচাগার ব্যবহার করতে পারে সে জন্য তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার সড়কের পাশে পাম্প, রেস্তোরাঁ নেই। তাই ওই অংশে ২৫টি অস্থায়ী টয়লেট নির্মাণ করা হবে।

মোনায়েম গ্রুপের প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. রবিউল আওয়াল বলেন, আমাদের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এখন প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার রাস্তার কাজ শেষ হয়েছে। ঈদে ঘরমুখো মানুষ এই সাাড়ে ৫ কিলোমিটার চার লেনের সুবিধা পাবে।

এদিকে বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল বলেন, মাঝে মাঝে যখন সেতুর ওপর গাড়ির চাপ পড়ে তখন টোল আদায়ে সমস্যা দেখা দেয়। তখন সাময়িক টোল বন্ধ থাকে। এবার টোল বক্স আটটি থেকে বাড়িয়ে ১১টি করা হচ্ছে।

ভোগাবে টঙ্গীর ছয় স্থান:
গাজীপুর জেলার মধ্যে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ছয়টি পয়েন্টে (স্থানে) যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে ঘরমুখো মানুষ ভোগান্তিতে পড়তে পারেন। গাজীপুর জেলায় যানজটের এসব পয়েন্ট চিহ্নিত করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থাগুলো। অবশ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চিহ্নিত পয়েন্টগুলোয় যানবাহনের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যানজটের সম্ভাব্য স্থানগুলো হচ্ছে- গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর বাজার বাসস্ট্যান্ড, হোতাপাড়া বাসস্ট্যান্ড, বাঘের বাজার বাসস্ট্যান্ড, শ্রীপুর উপজেলার মাস্টারবাড়ী বাজার, সিডস্টোর বাজার ও ময়মনসিংহের ভালুকা বাসস্ট্যান্ড। এ পাঁচটি পয়েন্ট ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের। আর ষষ্ঠ পয়েন্টটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকা।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার অংশের বিভিন্ন পয়েন্টে এখন কাজ চলছে। এখন এ মহাসড়কের টঙ্গী থেকে শুরু করে ময়মনসিংহের ভালুকা পর্যন্ত কোথাও খানাখন্দ বা ভাঙাচোরা নেই। তবে বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যত্রতত্র বাস দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করানোর কারণে যানবাহনের জটলার সৃষ্টি হচ্ছে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ, থানা পুলিশ ও মোবাইল টিম থাকবে। এ ছাড়া ১০টি রেকার রিজার্ভে রাখা হবে। কোনো কারণে যানবাহনে সমস্যা হলে যাতে দ্রুত সেগুলো সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। মহাসড়কের সব উড়াল সড়ক আমরা ব্যবহার করব। এ কারণে আশা করছি এবার ঘরমুখো মানুষ আরও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবে।

গাজীপুরের নাওজোড় হাইওয়ে থানার ওসি মো. শাহাদত হোসেন বলেন, চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় যানজট নিরসনে প্রতি বছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। থাকবেন এপিবিএন সদস্যরাও। চন্দ্রা ত্রিমোড় ছাড়াও আশপাশের বাজার হাইওয়ে রাস্তায়ও অতিরিক্ত পুলিশ থাকবে। তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর ঈদযাত্রায় মানুষকে নিরাপত্তা দিতে চন্দ্রা ত্রিমোড়ে একটি ওয়াচ টাওয়ার বসানো হয়। সেখান থেকে পুলিশ পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণ করবে।


মন্তব্য