মালয়েশিয়া যেতে পারেননি ১৭ হাজার শ্রমিক, লোপাট ৮৫০ কোটি টাকা!

মালয়েশিয়া
  © সংগৃৃহীত

মালয়েশিয়া যেতে পারেননি ১৭ হাজার শ্রমিক। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে তারা যেতে পারেননি। কিন্তু ২৫ রিক্রুটিং এজেন্সি ঠিকই হাতিয়ে নিয়েছে সাড়ে ৮শ’ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সহায়-সম্বল বিক্রি করে কিংবা জমি বন্ধক রেখেও যাদের এশিয়ার দেশটিতে পা রাখা হয়নি, তাদের টাকা ফেরত পাওয়া কঠিন। খোদ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কোনো ভরসা দিতে পারছে না।

গত ৮ দিন ধরে বিমানবন্দর থেকে রিক্রুটিং এজেন্সির অফিস, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন পাবনার আসাদ উল্লাহ। সরকারের ঘোষণা ছিল ৭৮ হাজার টাকায় মালয়েশিয়ায় যাওয়া যাবে। সেখানে সাড়ে ৫ লাখ টাকা দিয়েও কোনো কূলকিনারা হয়নি আসাদের। পরে ভিসা পেলেও, মেলেনি টিকেট। ফলে গত ৩১ মে শেষ দিনে মালয়েশিয়ায় যেতে পারেননি আসাদ উল্লাহর মতো প্রায় ১৭ হাজার বাংলাদেশি। তবে কর্মীরা এর দায় চাপাচ্ছেন রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ওপর।

মালয়েশিয়া যেতে না পারা একজন বলেন, আমরা টাকা দিয়েছি ৬ লাখ। তারা বলছে, এক লক্ষ টাকা দেবে। বাকি টাকার কথা জিজ্ঞেস করলে বলে, টাকা যার কাছে দিয়েছেন তার কাছ থেকে নেবেন। তবে প্রশ্ন হলো, বিএমইটির ছাড়পত্র থাকা সত্ত্বেও যারা মালয়েশিয়ায় যেতে পারেননি, তাদের কি হবে? যদিও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা বলেছে। তবে সেটি কোন প্রক্রিয়ায় দেয়া হবে সে বিষয়েও কিছু স্পষ্ট হয়নি।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের নিয়ন্ত্রণ ছিল ২৫ রিক্রুটিং এজেন্সির হাতে। যারা ১৬ হাজার ৯৭০ কর্মীর কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ৮৫০ কোটি টাকা। তবে তারাই এখন উল্টো দায় চাপাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর। তাদের ভাষ্য, অনেকের কাছে থেকে ৪ লাখ ৪৪ হাজার থেকে ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা নেয়ার কথা বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা শুনেছি। এটা একটা দালাল-শ্রেণি অথবা মধ্যভোগী কেউ না কেউ এই টাকাটা নিয়েছে।

এদিকে, মালয়েশিয়া সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে আর কোনো কর্মীর প্রয়োজন নেই তাদের। তবে হাল ছাড়েনি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, আমরা আবেদন করেছি যাতে অন্তত এই ১৭ হাজার কর্মীর মধ্যে যাদের ভিসা হয়েছে তাদের মালয়েশিয়া হয়।

অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর সময় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা সাবেক মন্ত্রী ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমদ বলছেন, কর্মীদের টাকা ফেরত পাওয়া কঠিন। এ জন্য তাদের অন্য দেশে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

ইমরান আহমদ বলেন, আমি এখানে খুবই কঠিন পরিস্থিতি দেখছি। দায়িত্ব কার ওপর বর্তায় আর এই দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে পেমেন্ট কে কতটুকু করবে- এগুলো করতেই মনে হয় ১০টা আমাদের করতে হবে।

এই অবস্থায় নতুন করে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনোভাবেই সিন্ডিকেটকে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) যুগ্ম মহাসচিব ফকরুল ইসলাম। তিনি বলেন, সব বৈধ রিক্রুটমেন্ট অ্যাজেন্সি সরকারের নির্ধারিত ব্যয়ে ও সরকারি মনিটরিংয়ের আয়ত্তে যেন ভবিষ্যতে কর্মী পাঠাতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শ্রমবাজারে অরাজকতা দূর করতে মন্ত্রণালয়ের কার্যকরী পদক্ষেপের বিকল্প নেই।

অন্যদিকে, কেন মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের সঙ্গে অনিয়ম, দুর্নীতি আর প্রতারণা হলো, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে একটি তদন্ত কমিটি আর এসব কর্মীদের তথ্য জানতে গণবিজ্ঞপ্তিতেই যেন আটকে আছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

তথ্য: চ্যানেল২৪


মন্তব্য


সর্বশেষ সংবাদ