ছাগলকাণ্ডের মতিউরের বান্ধবীও অঢেল সম্পদের মালিক

মতিউর
  © সংগৃহীত

ছাগলকাণ্ডের পর দেশব্যাপী আলোচনায় আসেন সাবেক এনবিআর কর্মকর্তা মতিউর রহমান। এর পর দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে মতিউর ও তার পরিবারের সদস্যদের অঢেল সম্পদ। তবে শুধু তারাই অঢেল সম্পদ গড়েছেন তা নয়, বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক বনে গেছেন সাবেক এই রাজস্ব কর্মকর্তার বান্ধবী আরজিনা খাতুনও।

এই আরজিনাও এনবিআরের কর্মকর্তা। রাজস্ব বোর্ডের মূসক মনিটরিং, পরিসংখ্যান ও সমন্বয়ের দ্বিতীয় সচিব। এর আগে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের উপ-কমিশনার ছিলেন।

মতিউরের মতোই অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে আরজিনার বিরুদ্ধে। মতিউরের সাথে সর্ম্পক রেখে তিনি অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ।

দুর্নীতি দমন কমিশনে আরজিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ যে ফিরিস্তি জমা পড়েছে, তা বেশ লম্বা। রাজধানীতে ফ্ল্যাট, গ্রামে আলিশান বাড়ি, পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে জমি, বাসায় বিলাসবহুল ইন্টেরিয়র এবং দামি সব আসবাবপত্র করেছেন।

মাত্র তিন বছরে ৫০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কারের মালিক এই আরজিনা। এর মধ্যে ২০০ ভরিই চোরাচালানের মাধ্যমে আনা হয়েছে বলে দুদকের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছে।

সম্প্রতি দুর্নীতি, অনিয়মের নানা অভিযোগ মাথায় নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে আলোচিত কর্মকর্তা মতিউর। তবে আরজিনার সঙ্গে তার একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়ে প্রকাশ্যে চলে এসেছে। সেই ফোনালাপ থেকেই ছাগলকাণ্ডের মতিউরের সঙ্গে তার অধস্তন আরজিনা খাতুনের সম্পর্ক নিয়ে অনেক অজানা তথ্য সামনে এসে পড়েছে।

গত ১০ জুন আরজিনার দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের খতিয়ান তুলে ধরে দুদকে অভিযোগ জমা দেন এক ব্যক্তি। তাতে বলা হয়, মিথ্যা তথ্য দিয়ে পণ্য আমদানি, মানি লন্ডারিং, স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সঙ্গে যোগসাজশে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন আরজিনা।

মতিউর রহমানের বান্ধবী এই পরিচয়েই বহু সুবিধা হাসিল করেছেন তিনি। সরেজমিনে তার প্রমাণও মিলেছে । এদিকে মেয়ে অপকর্মের সাথে জড়িত থাকলে তার বিচার চেয়েছেন বাবা।

আরজিনার বাবা রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির তালুকপাড়া গ্রামের আহমেদ আলী এক সময় মাছ বিক্রি করে সংসার চালাতেন। বাস করতেন টিন ও ছনের ঘরে। অথচ সেই ঘর এখন কংক্রিটের দ্বিতীয় তলা। জমিও কিনেছেন অনেক।

আগে চারবার মতিউর কীভাবে পার পেলেন, তাও দেখছে দুদকআগে চারবার মতিউর কীভাবে পার পেলেন, তাও দেখছে দুদক
অভিযোগ উঠেছে, মানিলন্ডারিং, স্বর্ণ চোরাচালান ও ছাগলকাণ্ডের মতিউর রহমানের সাথে ব্রোকারেজ হাউজে বিনিয়োগ করে আরজিনা হয়েছেন কোটিপতি। শুধু গ্রামের বাড়িতেই নয় রাজধানী ঢাকাতেও রয়েছে ফ্ল্যাট।

যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আরজিনা খাতুনের স্বজনরা। আর এ নিয়ে কথা বলতে চাইলে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা যায়নি আরজিনা খাতুনের সাথে।

তার বাবা জানান, ঢাকার ফ্ল্যাট ব্যাংক লোন নিয়ে কেনা। তবে অভিযোগ সত্য হলে মেয়ের বিচার চেয়েছেন তিনি।


মন্তব্য