ফের শুরু জেদ্দা টাওয়ারের নির্মাণকাজ; উচ্চতায় ছাড়াবে বুর্জ খলিফাকেও

জেদ্দা টাওয়ার
  © ফাইল ছবি

বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের বুর্জ খলিফা। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সবচেয়ে বড় উঁচু ভবন নির্মাণে হাত দেয় সৌদি আরব। ছয় বছর বন্ধ থাকার পর চলতি সপ্তাহে সৌদি আরবের জেদ্দা টাওয়ারের নির্মাণ কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে। নির্মাণ কাজ শেষ হলে এটিই হবে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু আকাশচুম্বী দালান। এর উচ্চতা হবে তিন হাজার ২৮০ ফুট।

আগে টাওয়ারটির নাম ছিল কিংডম টাওয়ার। পরে নাম পাল্টে দেওয়া হয় জেদ্দা টাওয়ার। জেদ্দা শহরে অবস্থানের কারণে ভবনটির এ নাম দেওয়া হয়। বেশ কয়েকটি মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সৌদি আরব। ভবনটিও সেসব প্রকল্পের একটি অংশ। এটি হতে যাচ্ছে ইতিহাসের প্রথম অবকাঠামো যেটি উচ্চতায় এক কিলোমিটার ছাড়িয়ে যাবে।

জেদ্দা টাওয়ারের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১.২ বিলিয়ন ডলার। এটির নকশা করেছেন শিকাগোভিত্তিক অ্যাড্রিয়ান স্মিথ + গর্ডন গিল আর্কিটেকচারের স্থপতি অ্যাড্রিয়ান স্মিথ ও গর্ডন গিল।

আর্কিটেকচার প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ কাজ পুনরায় শুরু হওয়ার বিষয়টি গত বৃহস্পতিবার নিউজউইককে নিশ্চিত করেছে। এছাড়াও আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ভবনটির কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

২০১৩ সালে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছিল। ভবনটি নির্মাণ করছিল বিনলাদিন গ্রুপ। গ্রুপটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন ওসামা বিন লাদেনের সৎ ভাই বকর বিন লাদেন। কিন্তু দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বকর বিন লাদিনকে গ্রেপ্তার করা হলে ২০১৮ সালে ভবনটির নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে করোনা মহামারির কারণে প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ আরেক দফা পিছিয়ে যায়।

ছয় বছর আগে নির্মাণ কাজ বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত ভবনটির এক-তৃতীয়াংশ কাজ সম্পন্ন হয়। নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে জেদ্দা টাওয়ার বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন দুবাইয়ের বুর্জ খলিফাকেও ছাড়িয়ে যাবে।

এছাড়াও এটি হবে নিউইয়র্কের এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের উচ্চতার দ্বিগুণ এবং স্ট্যাচু অব লিবার্টির উচ্চতার ১১গুণ।

গগনচুম্বী ভবনটিতে অত্যাধুনিক এলিভেটরের পাশাপাশি থাকবে ৫৯টি লিফট।

এক প্রতিবেদনে আর্কিটেকচারাল ডাইজেস্ট (এডি) ভবনটির বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছে। চলুন সেসব বিষয় জানা যাক…

সৌদি আরবের জেদ্দা শহরে নির্মিত হচ্ছে জেদ্দা টাওয়ার। এটি একটি বন্দর নগরী। এটি লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত এবং সৌদি আরবের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনবহুল শহর।

ভবনটি তৈরির জন্য বিশ্বমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। পরিকল্পনা বা নকশা অনুযায়ী এটি হবে একটি একক ভবন। গোড়া থেকে এর শীর্ষভাগ হবে ক্রমশ সরু।

স্থপতি স্মিথ ও গিল জানান, সৌদি আরবের নতুন এক ধরনের পাম গাছের পাতার আদলে এ ভবনের নকশা করা হয়েছে।

২০১৩ সালে টাওয়ারটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তবে ২০১৮ সালে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

সুউচ্চ ভবনটির ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান জেদ্দা ইকোনমিক কোম্পানি এক বিবৃতিতে জানায়, 'জেদ্দা টাওয়ারের নির্মাণ কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে…আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে টাওয়ারটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।' আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হবে।

নির্মাণ কাজ স্থগিত হওয়ার আগে ভবনটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কাজ শেষ হয়েছিল। সম্পূর্ণ কাজ শেষ হলে এর উচ্চতা হবে তিন হাজার ২৮১ ফুট বা এক কিলোমিটার। দুবাইয়ের বুর্জ খলিফার চেয়েও এর উচ্চতা হবে প্রায় ৫৬৪ ফুট বেশি।

বুর্জ খলিফার মতো জেদ্দা টাওয়ারেও বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে। ভবনটি আবাসিক, বাণিজ্যিক ও অফিসিয়াল কাজের জন্য ব্যবহার করা হবে। এছাড়াও ভবনটিতে অবজারভেশন ডেক, হোটেল, হেলিপ্যাড ব্যবস্থা। এছাড়াও এ অট্টালিকায় পর্যটকদের জন্যও থাকবে নানা আকর্ষণ।


মন্তব্য


সর্বশেষ সংবাদ