নাম রাখা হয়েছে ‘উড়ালসড়ক’, ওজন ৩৫ মণ

গরু
  © সংগৃৃহীত

কুরবানির হাটে তোলার জন্য বিশালাকৃতির সব পশুর বিভিন্ন নাম রাখেন মৌসুমি পশুপালনকারী লোকজন। তবে গুরুর এমন নাম কেন রাখলেন খামারি? সম্প্রতি এ নিয়ে  তৈরি হয়েছে কৌতূহল। সেই কৌতূহল থেকেই বেরিয়ে এলো এমন নামের রহস্য।

জানা গেল, হাওড় উপজেলা মিঠামইনের সঙ্গে কিশোরগঞ্জ শহরের যোগাযোগব্যবস্থা গতিশীল করতে উড়াল সেতু নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই সূত্র ধরেই ৩৫ মণ ওজন ও ৯ ফুট লম্বা গরুর নামকরণ করা হয়েছে ‘উড়ালসড়ক।’

কিশোরগঞ্জের গুণধর ইউনিয়নের খয়রাতহাটি গ্রামের মৌসুমি সৌখিন খামারি ইকবাল হোসেনের খামারের পশু এটি। এ গ্রামের জীবন্ত এ ‘উড়ালসড়ককে’ দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন ক্রেতাসহ বিভিন্ন বয়সের কৌতূহলী নারী-পুরুষ। সাদাকালো রঙের শরীরের শান্ত স্বভাবের পশু এটি। উড়ালসড়কের ওজন ৩৫ মণ। লম্বায় ৯ ফুট। শরীরে তেল চকচকে পশম। খিদে পেলে চিবিয়ে খায় ভুসি, খৈল, কলা, ঘাস-পানি ইত্যাদি প্রাকৃতিক খাবার।

তবে কুরবানির হাটের পশুর নাম উড়ালসড়ক কেন— এ নিয়ে বহিরাগতদের মধ্যে প্রশ্ন জাগতেই পারে। আর এ প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে— কিশোরগঞ্জের হাওড় উপজেলা মিঠামইনের কামালপুরের সন্তান সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তার প্রচেষ্টায় মিঠামইন উপজেলা থেকে করিমগঞ্জ উপজেলার খয়রত গ্রাম পর্যন্ত একটি উড়াল নির্মাণের হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। আর এ উড়ালসড়কটি খামারের পাশ ঘেঁষেই নামবে। এ কারণে খামারের মালিক আদর করে তার বড় গরুটির নাম রেখেছেন স্বপ্নের ‘উড়ালসড়ক’। কুরবানির হাটে বিক্রি করতে খামার মালিক এ পশুটিকে প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে মোটাতাজা করেছেন। 

চার বছর বয়সি এ গরুটি হলেস্টাইন ফ্রিজিয়ান জাতের বলে জানিয়েছেন খামারি ইকবাল। ছয় দাঁতের এ গরুটি দেখতেও খুব সুন্দর। প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ কেজি খাবার খায় ওই পশুটি। খাবারের মধ্যে আছে কাঁচা ঘাস, শুকনো খড়, গমের ভুসি, ধানের কুড়া, ছোলা, মিষ্টকুমড়া, খৈল ইত্যাদি। সে হিসাবে প্রতিদিন গরুটির পেছনে খরচ হচ্ছে ১ হাজার ৩০০ টাকা।  

এ খামারের এক গাভী থেকেই উড়ালসড়কের জন্ম হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইকবাল। পরে দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়া শুরু করেন তিনি। প্রয়োজনমতো খাবার দিয়ে গভীর যত্নসহকারে পরিচর্যা করছেন তিনি। এমন খাবারের ফলেই পশুটির গঠন বিশালাকৃতির হয়েছে। গত বছর এর ওজন ছিল ১ হাজার ২০০ কেজি। তখন দাম উঠেছিল সাড়ে সাত লাখ টাকা। এ বছর এর ওজন হয়েছে ১ হাজার ৪০০ কেজির ওপরে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের চিকিৎসকদের সহযোগিতায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ফিতার মাপে ওজন নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

করিমগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হাছান জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর এবং বড় গরুর মধ্যে এটি একটি। এ গরু দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত লোক। দূর থেকে আসছেন ক্রেতারাও। মালিক দাম হাঁকছেন ১৫ লাখ টাকা।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুভাষ চন্দ্র পণ্ডিত জানান, ‘উড়ালসড়ক’-এর মালিক একজন সফল উদ্যোক্তা। ‘উষা ডেইরি ফার্ম অ্যান্ড অ্যাগ্রো’ নামে তার খামার রয়েছে। এ খামারেই তাকে পেলে-পুষে বড় করা হয়েছে। নিয়মিত দেখভাল করেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়।


মন্তব্য


সর্বশেষ সংবাদ