বায়ুদূষণে ৪০ বছরে অকালে মারা গেছেন সাড়ে ১৩ কোটি মানুষ

বায়ু দূষণ
  © ফাইল ছবি

গত কয়েক দশক ধরে বিশ্বব্যাপী বেড়েছে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ। মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রম ও দাবানলের কারণে বায়ুদূষণের ফলে ৪০ বছরে বিশ্বের সাড়ে ১৩ কোটি মানুষ অকালে মারা গেছে। 

সোমবার (১০ জুন) সিঙ্গাপুরের নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনটিইউ) প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

সিঙ্গাপুরে নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত গবেষণায় জানানো হয়, এল নিনোর মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক ঘটনা ছাড়াও বিভিন্ন কারণে বাতাস দূষিত হচ্ছে।

বায়ুদূষণের অন্যতম উপাদান পিএম ২.৫ বা অতিক্ষুদ্র বস্তুকণার উপাদান ধরেই বায়ুর মান নির্ণয় করা হয়েছে এ প্রতিবেদনে। সেখানে দেখা গেছে, এই কণার অত্যধিক উপস্থিতির কারণে তা শ্বাসের মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করে। এরা এত ক্ষুদ্র যে, সহজেই প্রবেশ করতে পারে রক্তচক্রে। বিভিন্ন যানবাহন, কলকারখানার ক্ষতিকর উপাদান ছাড়াও আগুন ও ধূলায় এই উপাদান বেশি থাকে। 

এনভায়রনমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল নামক এক জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বায়ুদূষণের কারণে ১৯৮০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৪০ বছরে অকালমৃত্যু হয়েছে সাড়ে ১৩ কোটি মানুষের। আর তারা মারা গেছে স্ট্রোক, হৃৎপিন্ড ও ফুসফুসের নানা জটিল রোগে। এ ছাড়া কেউ কেউ মারা গেছে ক্যানসারে।
 
বায়ুদূষণের কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে মৃত্যুও বেশি হয়েছে ১৪ শতাংশ। বেশির ভাগ মারা গেছে চীন ও ভারতে। পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও জাপানে বায়ুদূষণের কারণে অকালে মারা গেছে ২০ থেকে ৫০ লাখ মানুষ।  

এ ব্যাপারে গবেষক দলের নেতৃত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক স্টিভ ইম বলেন, ‘আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে জলবায়ুর ধরণ পাল্টে গেলে দূষণও বেড়ে যায়। এগুলো নিয়ে সবাইকে ভাবতে হবে।’


মন্তব্য