লাউতারোর গোলে কোপার কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনা
  © সংগৃহীত

আর্জেন্টিনাকে ৮৮ মিনিট পর্যন্ত আটকে রেখেও শেষ পর্যন্ত হেরে গেল চিলি। দ্বিতীয় ম্যাচেও গোল পেয়ে প্রতিপক্ষের ডেডলক ভেঙে দলকে জয় এনে দিলেন সুপার সাব লাউতারো মার্তিনেস। জর্জিয়ার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় কোপা আমেরিকার দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও চিলি। লাউতারো মার্তিনেসের ৮৮তম মিনিটের গোলে ১-০ গোলে ম্যাচটি জিতেছে আর্জেন্টিনা।

এই জয়ে প্রথম দুই ম্যাচে দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থেকে টুর্নামেন্টে সবার আগে শেষ আট নিশ্চিত করেছে মেসি অ্যান্ড কোং। গ্রুপের বাকি ম্যাচটি তারা খেলবে ৩০ জুন। ওইদিন সকাল ৬টায় পেরুর বিপক্ষে মাঠে নামবে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

ম্যাচে মোট ২২টি শট নেয় আর্জেন্টিনা, এর মধ্যে ৯টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে, মাত্র তিনটি শট নিয়ে তিনটিই লক্ষ্যে রাখে চিলি। এই তিন শটের প্রতিটিই ছিল বিপজ্জনক। এদিন গোল-অ্যাসিস্ট কোনোটিতেই ভূমিকা না রাখলেও লিওনেল মেসির উপস্থিতিই প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করার জন্য যথেষ্ট ছিল।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, শুরু থেকে রক্ষণাত্মক খেলতে থাকে চিলি। চিলি পূর্ণ রক্ষণাত্মক খেলায় বল নিয়ে কোনোভাবেই প্রতিপক্ষের ডি বক্সে ঢুকতে পারছিল না আর্জেন্টিনা। ফলে পুরো প্রথমার্ধে বক্সের বাইরে থেকে বেশকিছু শট নেয় কোপার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

দ্বাদশ মিনিটে আর্জেন্টিনার প্রথম প্রচেষ্টা প্রতিহত হয়। নিকোলাস গন্সালোসের কাস থেকে পাস পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে শট নেন রদ্রিগো দে পল, কিন্তু তা চিলির রক্ষণে প্রতিহত হয়। এর প্রায় দশ মিনিট পর বক্সের মধ্যে থেকে প্রথম গোলে শট নেন হুলিয়ান আলভারেস। গন্সালেসের দারুণ একটি পাস প্রথম ছোঁয়াতেই চকিতে গোলের দিকে ঘুরিয়ে দেন ছয় গজ বক্সের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা হুলিয়ান। কিন্তু ৪১ বছর বয়সী চিলির অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ক্লাউদিও ব্রাভো তা আগে থেকেই বুঝতে পেরে পজিশনে চলে আসেন। শট আসার সঙ্গে সঙ্গে তা বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন চিলি অধিনায়ক।

এর পরপরই নিকো গন্সালেসের একটি শট গোলপোস্টের বাঁ পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ২৬তম মিনিটে দে পলের আরেকটি প্রচেষ্টা পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়। পরের মিনিটে আর্জেন্টিনার আরও একটি প্রচেষ্টা প্রতিহত হয়। ডি বক্সের কিছুটা বাইরে থেকে চিলির একজন মিডফিল্ডারের কাছ থেকে বল ছিনিয়ে নিয়ে বক্সের দিকে এগোন এনসো ফের্নান্দেস। তিনি শট নেওয়ার চেষ্টা করলে তা চিলির রক্ষণে বাধাপ্রাপ্ত হয়। তবে পরবর্তীতে বল পেয়ে যান নিকোলাস গন্সালেস। তিনি ফের এনসোকে পাস দিলে আবারও শট নেন তিনি। তবে ব্রাভো ফের শটটি ঠেকিয়ে দেন।

৩০তম মিনিটে আর্জেন্টিনার আরও একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। ৩৬তম মিনিটে মেসির দূর থেকে একটি জোরালো শট গোলপোস্ট ঘেঁষে বাইরে দিয়ে চলে যায়।

৩৮তম মিনিটে একটি আত্মঘাতী গোল পেয়ে যা্চ্ছিল আর্জেন্টিনা। ডান পাশ থেকে এগিয়ে গিয়ে বক্সের বাইরে থেকে এনসো ফের্নান্দেস জোরালো নিচু ক্রস দিলে তা গোলমুখের সামনে থেকে চিলিরি ডিফেন্ডার গাব্রিয়েল সুয়াসো ক্লিয়ার করতে গিয়ে দূরের পোস্ট দিয়ে প্রায় গোল হয়ে যাচ্ছিল।

অতিরিক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেসের একটি শট গোলপোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়, দ্বিতীয় মিনিটে রদ্রিগো দে পলের আরও একটি। এরপর আর সুযোগ তৈরি করতে না পেরে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুদল। প্রথমার্ধে চিলি রক্ষণে এতটাই মনোযোগী ছিল যে, গোলের জন্য একটি সুযোগও তৈরি করতে পারেনি তারা। আসলে সুযোগ তৈরির চেষ্টাই করেনি।

আর্জেন্টিনা প্রথমার্ধে মোট ১৩টি শট নেয়, যার মাত্র তিনটি লক্ষ্যে রাখতে পারে; চারটি রক্ষণে বাধা পায় এবং বাকি ছয়টি শট গোলপোস্টের বাইরে ছিল। প্রথম ২০ মিনিটে ৮২ শতাংশ সময় আর্জেন্টিনার পায়ে বল ছিল। তবে প্রথমার্ধ শেষে তা গিয়ে দাঁড়ায় ৬২ শতাংশে।

দ্বিতীয়ার্ধে খেলার ধরন পাল্টে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে চিলি। প্রথম মিনিটেই বল নিয়ে আর্জেন্টিনার ডি বক্সের সামনে চলে যায় তারা। তবে সেখান থেকে ডিফেন্ডাররা আর্জেন্টিনাকে বিপদমুক্ত করে। পরের মিনিটে বল নিয়ে একাই এগোতে থাকেন আর্জেন্টিনার নিকোলাস গন্সালেস। তবে চিলির রক্ষণে তিনিও কাটা পড়েন।

দুপক্ষই গোলের চেষ্টা করতে থাকায় দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ জমে ওঠে। ৫০তম মিনিটে প্রথম ভালো আক্রমণে যায় আর্জেন্টিনা। মাঝমাঠে বলের দখল নিয়েই দ্রুতগতিতে এগোতে থাকে তারা। কিছুটা এগিয়ে সতীর্থের পাস ধরে এগোতে থাকেন মেসি। বক্সের সামনে গিয়ে ডান পাশ দিয়ে এগিয়ে যাওয়া নাহুয়েল মলিনাকে মেসি পাস বাড়ালে তার কাছের পোস্টের জোরালো শট প্রতিহত করেন ব্রাভো।

৫৭তম মিনিটে আরও একটি ভালো সুযোগ তৈরি হয় আর্জেন্টিনার। ডি বক্সের বেশ বাইরে ফাউল থেকে ফ্রিক কিক নেন মেসি। বল উড়িয়ে বক্সের মধ্যে ক্রস দিলে গোলমুখে তা প্রায় পেয়েই গিয়েছিলেন আলেক্সিস মাক আলেস্তার। তবে এগিয়ে এসে বিপদ ঠেকান ব্রাভো। ৬০তম মিনিটে চিলির একটি প্রচেষ্টা রুখে দেন লিসান্দ্রো মার্তিনেস। পরের মিনিটে গন্সালেসের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।

৭২তম মিনিটে দারুণ একটি সুযোগ তৈরি করে চিলি। ডান পাশ ধরে এগিয়ে গিয়ে বক্সে ঢুকে যান দারিও ওসরিও। তিনি ক্রস দিলে তা থেকে জোরালো নেন চিলির রদ্রিগো এচেভেরিয়া। তবে শটটি ঠেকিয়ে দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস। ম্যাচে আর্জেন্টিনা গোলরক্ষকের এটিই প্রথম সেভ।

৭৬তম মিনিটে এচেভেরিয়ার আরও একটি দারুণ প্রচেষ্টা ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে আর্জেন্টিনাকে সত্যিকার অর্থে বিপদমুক্ত করেন মার্তিনেস। পরের মিনিটে আরও একটি শট ঠেকান তিনি। ম্যাচের ৭৫ মিনিট পর পরপর তিন মিনিটে তিনটি ভালো আক্রমণে গিয়ে আর্জন্টিনার রক্ষণ কাঁপিয়ে দেয় চিলি। এসময় চ্যাম্পিয়নদের কিছুটা ক্লান্ত দেখায়। আর এর সুযোগ নেয় তারা।

৮০তম মিনিটে আরও একটি ভালো প্রচেষ্টা চালায় চিলি। এসময় বদলি হিসেবে নামা লাউতারো মার্তিনেস ও আনহেল দি মারিয়ার উপস্থিতিতে আক্রমণভাগে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনাও। তবে ম্যাচের দুই মিনিট বাকি থাকতে আর দলকে বাঁচাতে পারেননি ম্যাচজুড়ে ৮টি দারুণ সেভ করা ব্রাভো। ফলে কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

মেসির কর্নার থেকে আসা ক্রস গোল লাইনের কয়েক ইঞ্চির মধ্যে পেয়ে যান জিওভানি লো সেলসো। কিন্তু তার শট সঙ্গে সঙ্গে ঠেকিয়ে দিলেও বল ব্রাভোর হাতে লেগে সামনে চলে যায়। তিনি উঠে দাঁড়ানোর আগেই সেখান থেকে বল জালো জড়ান লাউতারো মার্তিনেস।

অতিরিক্ত যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে লাউতারো-দি মারিয়ার পাল্টা আক্রমণ থেকে আরও একটি গোল পেয়ে যাচ্ছিল আর্জেন্টিনা। তবে ক্লাউদিও ব্রাভোর অসাধারণ দক্ষতায় ব্যবধান বাড়াতে পারেননি মার্তিনেস। ফলে এক গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।

 


মন্তব্য