১৯৭১ এর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির আহ্বান রবি উপাচার্যের

রবি
  © সংগৃহীত

২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতির আহ্বান জানিয়েছেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: শাহ্ আজম। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান রবীন্দ্র উপাচার্য।

সোমবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে প্রতিষ্ঠিত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবন-৩ এ  প্রদীপ প্রজ্জ্বালন করা হয়। গণহত্যা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শাহ্ আজম প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় তিনি ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দান এবং বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানান।

রবীন্দ্র উপাচার্য শাহ্ আজম বলেন,  বাংলাদেশে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া গেলে যারা এ গণহত্যা চালিয়েছিল তারা বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না। ২৫ মার্চ তথা ১৯৭১ সাল জুড়ে বাঙালি জাতির ওপর যা হয়েছিল তা ইতিহাসের পাতায় অভিশপ্ত একটি স্থান। তাই দিবসটি আন্তর্জাতিকভাবেই স্মরণ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। রবি উপাচার্য আরও বলেন, জাতির পিতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মহান স্বাধীনতা অর্জনের পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও আমরা পাকিস্তানিদের নারকীয় হত্যার স্বীকৃতি পাইনি। ব্রাজিলে একটি গোষ্ঠীকে নিধন করার জন্য ১৮ জনকে হত্যা করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তা কোর্টে জেনোসাইড হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু ১৯৭১ সনের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যে সামরিক অভিযানটি পরিচালনা করেছিল সেখানে কমপক্ষে ৫০ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়। এরপরেও গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না পাওয়া হতাশাব্যাঞ্জক।

শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্জ্বালন এবং একমিনিট নীরবতা পালনের পর রবীন্দ্র উপাচার্য শাহ্ আজম সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, শহীদদের রক্ত কখনো বৃথা যায় না। বঙ্গবন্ধুর সুদক্ষ নেতৃত্ব এবং মহান শহীদদের আত্মত্যাগের কারনেই আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি এবং আজ আমরা একটি উন্নয়নশীল জাতির মর্যাদা অর্জন করেছি।

বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার বদ্ধপরিকর এবং এরই ফলস্বরুপ আজ আমরা একটি উন্নয়নশীল জাতির মর্যাদা অর্জন করেছি।

এ সময় অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো: ফখরুল ইসলাম, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।


মন্তব্য