এক দফা দাবিতে ফের 'বাংলা ব্লকেড' শুরু

কোটা
  © ফাইল ছবি

সকল গ্রেডের সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি শুরু করেছেন কোটাবিরোধী শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। গতকাল রোববার থেকে সারাদেশে একযোগে এ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। আজ সোমবার বিকাল সাড়ে তিনটা থেকে ঢাকাসহ দেশব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মহাসড়ক অবরোধ করে 'বাংলা ব্লকেড' কর্মসূচি পালন করছে শিক্ষার্থীরা।

১ দফা দাবিতে চলমান এ আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাজধানীর অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করেছে আন্দোলনকারীরা। রাজধানীর শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাব, বাংলা মোটর, কারওয়ান বাজার, মিন্টু রোড, চাঁনখারপুল, নীলক্ষেত, জিরো পয়েন্ট, আজিমপুরসহ অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবস্থান নিয়েছে কোটাবিরোধীরা।

বিকাল সাড়ে তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অতিক্রম করে সাড়ে ৪টায় শাহবাগ মোড় অবরোধ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এর আগে বিকাল ৩টা থেকে জাতীয় পতাকা, ছাতা, পানি ও শুকনো খাবার নিয়ে রাজধানীর নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করে ইডেন মহিলা কলেজ ও গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিক্ষার্থীরা।

 চাঁনখারপুল মোড় অবরোধ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হল, ড. মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ হল ও ফজলুল হক হলের শিক্ষার্থীরা। বিকাল ৩টা থেকে সায়েন্স ল্যাব অবরোধ করেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা সিটি কলেজের শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর এসব গুরুত্বপূর্ণ মোড় অবরোধ করায় যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। 

রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে সবচেয়ে বড় জমায়েত করে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের সমন্বয়করাও রয়েছেন এই এলাকায়। শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত তাদের এ আন্দোলন চলমান থাকবে। কোনো ধরনের শক্তি তাদের এ আন্দোলনকে থামাতে পারবে না। 

আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী সারজিস আলম বলেন, আমাদের এ আন্দোলন চলতেই থাকবে, সময়ের প্রয়োজনে তা তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। গতকাল আমরা রাত ৮টা পর্যন্ত রাজপথে ছিলাম, আজ প্রয়োজনে আরো বেশি সময় থাকব। আমাদের দাবি আদায়ের আগে আমরা হাল ছাড়ব না।

সারজিস আলম বলেন, তৃতীয় চতুর্থ শ্রেণি থেকে শুরু করে সকল গ্রেডে যৌক্তিক কোটা ছাড়া সকল ধরনের কোটা বাতিলের দাবিতে আমাদের এই আন্দোলন। আজ আমরা আমাদের বাংলা ব্লকেড কর্মসূচির তীব্র রূপ দেখাব। আমরা ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ অন্তত ১০টি মোড় অবরোধ করব যেগুলো অবরোধের ফলে পুরো শহরে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। ঢাকার সাথে অন্যান্য জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। আমরা কখনোই কোটা সম্পূর্ণ বাতিল চাইনি। আমরা সবসময় চেয়েছিলাম কোটার যৌক্তিক সংস্কার। সুতরাং আমাদের এই আন্দোলনে পুলিশ না, আমরা বিশ্বাস করি যেকেউ আসুক না কেন আমাদের এই আন্দোলন আরো তীব্র থেকে তীব্রতর হবে।

এর আগে গতকাল রোববার 'বাংলা ব্লকেড' কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রায় ৫ ঘন্টা ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো অবরোধ করে রাত ৮টায় নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে অবরোধ তুলে নেয় শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সোমবার সারাদেশে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের পাশাপাশি বিকাল সাড়ে ৩ টা থেকে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।


মন্তব্য