১০০ টাকায় তরমুজ ও ৩০ টাকায় আনারস বিক্রি করছেন ডা. নাহিদ

সারাদেশ
  © সংগৃহীত

ডা. নাহিদ উল হক নামে এক ব্যক্তি ফরিদপুরে ১০০ টাকায় তরমুজ ও ৩০ টাকায় আনারস বিক্রি করছেন। প্রথম দিনেই এতে বিপুল সাড়া পড়ে। সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে কিনতে দেখা যায় সাধারণ মানুষকে। এর আগে তিনি ৫০০ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি করেন।

পবিত্র রমজান উপলক্ষে স্বল্প আয়ের মানুষের ক্রয় সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করে ডা. নাহিদ উল হকের এ উদ্যোগ নেন।

শুক্রবার (২২ মার্চ) সকালে শহরের প্রেসক্লাবের সামনের মুজিব সড়কে এ দুটি ফল বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই এখানে বিক্রি করা হবে তরমুজ ও আনারস।

শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম চলবে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত। প্রতি পিস তরমুজ ১০০ টাকা (ওজন ৩ থেকে সাড়ে ৩ কেজি) এবং প্রতি পিস দুইশ টাকা (ওজন ৫ থেকে ৬ কেজি) বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া আনারস প্রতি পিস ৩০ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে।

তরমুজ কিনতে আসা রিকশাচালক আবু হোসেন বলেন, ‘রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। রোজা থেকে ফল দিয়ে ইফতারি করবো, ফলের দাম বেশি হওয়ায় সম্ভব হয়ে ওঠে না। তরমুজ তো নাগালের বাইরে ছিল। কম দামে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে শুনে একটি তরমুজ নিয়েছি। দাম নিয়েছে ১০০ টাকা, ওজন হবে আড়াই কেজি। ’

তিনি আরও বলেন, ‘বাজারে এই তরমুজের দাম হবে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। শুনেছি এক ডাক্তার এই উদ্যোগ নিয়েছেন, অনেক দোয়া করি তিনি দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া দুইটি আনারস নিয়েছি ৬০ টাকা দিয়ে। ’

তরমুজ কিনতে আসা আরেক ব্যক্তি শফিউল ইসলাম বলেন, ‘বড় একটি তরমুজ ২৫০ টাকা দিয়ে কিনেছি। বাজারে এর মূল্যে কমপক্ষে ৬০০ টাকা। এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। ওই ডাক্তারের মতো আরও মানুষ এগিয়ে এলে দরিদ্র মানুষ বেঁচে যেত। ’

তিনি আরও বলেন, ‘রমজানে বহির্বিশ্বে দ্রব্যমূল্য অনেক কমে যায়। কিন্তু আমাদের দেশে ঠিক উল্টো। রমজান এলেই দাম বেড়ে যায়। আমাদের দেশেও এ ধরনের উদ্যোগে সবাই এগিয়ে এলে অবশ্যই বাংলাদেশেও পরিবর্তন সম্ভব। ’

স্বল্পমূল্যে তরমুজ ও আনারস বিক্রির উদ্যোক্তা ডা. নাহিদ উল হক বলেন, ‘বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে রমজানে তরমুজ ও আনারস কিনতে পারছে না দরিদ্র মানুষ। বিষয়টি বিবেচনা করে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জনসাধারণ রমজানে যাতে একটু স্বস্তিতে থাকতে পারে সেজন্যই এ প্রচেষ্টা। ’

তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে ৫০০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রি করেছি। আজও গুহ লক্ষ্মীপুর এলাকায় ৫০০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রি করছি। পাশাপাশি স্বল্পমূল্যে তরমুজ ও আনারস বিক্রি শুরু করেছি। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হবে। ’


মন্তব্য