তিস্তার সংস্কারের নামে কাটা হচ্ছে ৪ লাখ গাছ

গাছ
  © সংগৃহিত

তিস্তা সেচ ক্যানেল সংস্কার ও সম্প্রসারণের নামে রংপুরের তারাগঞ্জে বন বিভাগ ৪ হাজার গাছ কাটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর পুরো বিভাগে গাছ কাটা হচ্ছে অন্তত ৪ লাখ। 

 

এসব কর্মকাণ্ডে নিন্দা জানিয়েছেন সমাজকর্মী, পরিবেশবিদসহ সাধারণ মানুষ। তারা বলছেন, দেশে অতীতের রের্কড ভেঙেছে টানা একমাসের দাবদাহ। হাফফাস করছে মানুষ ও প্রাণীকুল। প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ থেকে বাঁচতে গাছের গুরুত্ব যখন সর্বত্র তখন উল্টো পথে বন বিভাগ।

 

সরেজমিনে রংপুরের তারাগঞ্জে দেখা যায়, রোদ্দুরে আগুনের হলকা উপেক্ষা করে তিস্তা সেচ ক্যানেলের ধারে থাকা গাছ কাটতে ব্যস্ত একদল শ্রমিক। এতে গাছ গাছালিতে ভরে থাকা তিস্তা শেষ ক্যানাল এখন পরিণত হচ্ছে মরুভূমিতে। 

 

সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তিস্তা সেচ ক্যানেল সংস্কার ও সম্প্রসারণে একটি প্রকল্প নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে এই প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সংস্কারের নামে দরপত্র দিয়ে সেচ ক্যানেলের দুই ধারসহ পুরো বিভাগের প্রায় ৪ লাখ গাছ কাটছে বন বিভাগ। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে যখন বিপর্যস্ত রংপুর বিভাগ তখন আত্মঘাতী এমন পদক্ষেপকে পাশ কাটিয়ে গাছ রক্ষায় অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি পরিবেশবাদীদের।

 

ক্যানেল ঘেঁষা গ্রাম দৌলতপুর। এই গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, রক্ষকই যখন ভক্ষক, তখন আর কী করা যাবে। বন বিভাগের উচিত গাছপালা লাগানো। তা না করে তারাই এখন গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছে। এতে আমাদের পুরো ক্যানেলটা এখন গাছ শূন্য হয়ে গেল।

 

ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা খলিলুর রহমান বলেন, ছোট বড় কোনো গাছই বাদ দিচ্ছে না। সব কেটে সাবার করছে। গাছগাছালি থাকায় ক্যানেলের ধারে বিকেলে অনেকেই ঘুরতে আসতো। এখন তো আমাদের আশপাশের ৬-৭ গ্রামের মানুষের তারাগঞ্জ যাতায়াতে কষ্ট হবে। গাছগুলো কাটা বনবিভাগের হটকারী সিদ্ধান্ত ছাড়া কিছুই না।

 

পরিবেশবিদ ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, সারাদেশে তাপ প্রবাহ এ বছর ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এই পরিস্থিতিতে যখন গাছ কাটতে পারি আমরা, এটা শুধুমাত্র একটা নির্মমতা। যে প্রকল্প এখানে নেওয়া হয়েছে এই কাজ সুরক্ষা করেও তা বাস্তবায়ন করা যেত। 

 

তিনি বলেন, আমরা মনে করি যে পর্যন্ত গাছ কেটেছে এখনই গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে। একসঙ্গে কেন এত গাছ কাটা হলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

এদিকে বিষয়টি জানতে রংপুর বিভাগীয় বন কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

 


মন্তব্য