বসুন্দিয়ায় শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত

যশোর
  © টিবিএম

যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া নাথপাড়ায় (৭জুলাই) রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় হাজারো ভক্ত সমাগমে,যথাযথ ধর্মীয় ভাব গম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মী অনুষ্ঠান, শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা। বাবু অমর কুমার নাথের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে রথযাত্রার উদ্বোধন করেন বাবু রমেশ চন্দ্র কাপুড়িয়া। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শিখা ব্যানার্জি। অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে ছিলেন বসুন্দিয়া পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই আব্দুল আলীম। বসুন্দিয়া নাথপাড়া জগন্নাথ মন্দির থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা মধ্যে দিয়ে বসুন্দিয়া বাজার সার্বজনীন কালী মন্দিরে নিয়ে গেলেন জগন্নাথ দেবের রথ। 

এ অনুষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদক বাবু বাসুদেব নাথ বলেন,সারা বিশ্বের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, জগন্নাথ দেব হলেন- জগতের অধীশ্বর। জগৎ হচ্ছে বিশ্ব আর নাথ হচ্ছেন ঈশ্বর। তাই জগন্নাথ দেব হচ্ছেন জগতের ঈশ্বর। তার অনুগ্রহ পেলে মানুষের মুক্তি লাভ হয়। জীবরূপে তাকে আর জন্ম নিতে হয় না। এ বিশ্বাস থেকেই রথের ওপর শ্রী শ্রী জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রা মহারানীর শ্রীবিগ্রহ রেখে যাত্রা করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

উল্লেখ্য, সনাতন ধর্মীয় উৎসবগুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রা। ভারতে বঙ্গোপসাগরের পূর্বউপকূলে উড়িষ্যা (বর্তমান ওড়িশা) নামক রাজ্যে অবস্থিত পুরীর জগন্নাথ মন্দির। সেই শ্রীমন্দির থেকে গুণ্ডিচা মন্দিরে রথে চড়ে ভগবান শ্রী জগন্নাথ দেবের যাত্রাই রথযাত্রা নামে অভিহিত। এ যাত্রার প্রধান তিন বিগ্রহ- জগন্নাথ (কৃষ্ণ), বলদেব (বলরাম) ও সুভদ্রা (শ্রীকৃষ্ণের ভগিণী ও যোগমায়াশক্তি)। সাধারণত তিনটি রথে এ তিন বিগ্রহ স্থাপন করা হয়। প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এর সাত দিন পর জগন্নাথদেব যখন গুণ্ডিচা মন্দির থেকে আবার তার শ্রীমন্দিরে ফিরে আসেন, তাকে বলা হয় উল্টো রথযাত্রা। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন এই রথযাত্রা মহোৎসব।


মন্তব্য