মুক্তিপণের ১০ লাখ টাকা নিয়ে ঘুরে ঘুরে ছেলের মরদেহ পেলেন বাবা

অপহরণ
  © ইনডিপেনডেন্ট

হৃদয়বিদারক এক ঘটনা ঘটে গেলো গাজীপুরে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়িতে নিখোঁজের চার দিন পর বাড়ির পাশের কলাবাগান থেকে তামিম নামের সাড়ে ৬ বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করছে পুলিশ। 

আজ বুধবার (১০ জুলাই) দুপুরে আমবাগ এলাকা থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোনাবাড়ি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান লিটন।

তামিম ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর থানার মাটিজাপুর গ্রামের নাজমুলের ছেলে। তার বাবা কোনাবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে ব্যবসা করেন।

নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গেল ৭ জুলাই বিকেলে বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয় শিশু তামিম। পরে এলাকার বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে ওই দিনই থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করে তার পরিবার। নিখোঁজের একদিন পর অপরিচিত একটি নম্বর থেকে বাবা নাজমুলের কাছে ফোনকলে আসে। এতে বলা হয়- তামিমকে জীবিত ফেরত পেতে হলে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে।

পরে নিহতের বাবা অপহরণকারীর মুক্তিপণের ১০ লাখ টাকা দিতে রাজি হন। টাকা নিয়ে অপহরণকারীদের দেওয়া তথ্য মতো ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় যান নাজমুল। কিন্তু তিনি কাউকেই পাননি। অপহরণকারীদের নম্বরটিও বন্ধ। এরপর আজ বুধবার দুপুরে বাড়ির পাশে কলাবাগানে তামিমের অর্ধগলিত মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ বিষয়ে কোনাবাড়ি থানার এসআই কামরুজ্জামান লিটন বলেন, সিসিটিভির একাধিক ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনার দিন বিকেলে তামিম বাড়ির পাশে ছিল। কিছু সময় পর তাঁর খোঁজ মেলেনি। এ ব্যাপারে স্বজনেরা সাধারণ ডায়েরি করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

এসআই আরও বলেন, ভুক্তভোগীর বাবার মোবাইলফোনে কল দিয়ে টাকা দাবি করা হয়। সে অনুযায়ী দাবিকৃত টাকা নিয়ে ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় গেলেও কেউ টাকা নিতে আসেনি। বিষয়টি সুবিধাবাদী কোনো দলের কাজ বলে মনে হচ্ছে। এ ব্যাপারে জিডি মূলে মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য