গরুর মাংসের দাম বাড়ার প্রতিবাদ

কাফনের কাপড় হাতে নিয়ে ৬৩০ টাকায় মাংস বিক্রি

মাংস
  © সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুর ১১ নম্বরের লালমাটি এলাকার টেম্পোস্ট্যান্ডে উজ্জ্বল গোশত বিতান। এখানে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬৩০ টাকায়। তাও আবার ক্রেতাদের চোখের সামনে গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করছেন বিক্রেতা। কম দামে মাংস কিনতে সেখানে ক্রেতার ভিড় লেগেই থাকে। গতকাল শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ২৫টি গরু। 

হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি উপেক্ষা করেই দীর্ঘদিন কম দামে মাংস বিক্রি করে যাচ্ছেন উজ্জ্বল গোশত বিতানের মালিক উজ্জ্বল হোসেন। সাম্প্রতিক সময়ে হুমকি বেড়ে যাওয়ায় প্রতিবাদ হিসেবে গতকালও কাফনের কাপড় হাতে নিয়ে মাংস বিক্রি করেছেন উজ্জ্বল।

সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে কম দামে গরুর মাংস ভোক্তার হাতে তুলে দিয়ে বাজারে স্বস্তি ফেরানো ব্যবসায়ীরা হুমকিতে পড়েছেন। খুনখারাবি করেও বাজার নিজেদের কবজায় রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে একটি চক্র। কম দামের মাংস বেচতে গিয়ে এরই মধ্যে চক্রের হাতে জীবন দিয়েছেন রাজশাহীর এক বিক্রেতা। হামলার শিকার হয়েছেন যশোরের এক ব্যবসায়ী। কম দামে মাংস বিক্রি করে সুনাম কুড়ানো রাজধানীর শাহজাহানপুরের ব্যবসায়ী মো. খলিল ও মিরপুরের উজ্জ্বলকে দেওয়া হয়েছে প্রাণনাশের হুমকি। 

আরও পড়ুন: আমিষের চাহিদা পূরণে ভরসা মুরগির পা, পাখনা ও গিলা-কলিজা

এই পরিস্থিতিতে প্রতিবাদ হিসেবে উজ্জ্বল হাতে তুলে নেন কাফনের কাপড়। 

উজ্জ্বল বলেন, ‘খামার ও হাটে গরুর দাম কম। তাই কম দামে মাংস বিক্রি করছি। দাম কম হলেও আমাদের মাংসে কোনো ত্রুটি নেই। দেশি গরু বিক্রি করছি; লাভও করছি ভালো। কিন্তু কম দামে বিক্রি করার কারণে একটি চক্র বারবার হুমকি দিচ্ছে। ব্যাপারী, কিছু সুপার স্টোরের কর্মকর্তা, আমদানিকারক ও মাংস ব্যবসায়ীদের একটি চক্র আমাকে গরু কিনতে দিচ্ছে না। মাংসের দাম বাড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছে। যা হওয়ার হবে, কাফনের কাপড় হাতে তুলে নিয়েছি, সঙ্গে থাকবে সব সময়। জীবন-মরণ আল্লাহর হাতে। মরলে মরব, তার পরও সিন্ডিকেটের কাছে মাথা নত করব না।’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কম দামে মাংস বিক্রি করেও আমরা নিরাপত্তাহীন। আমাদের দিকে রাষ্ট্রের নজর নেই। মাসখানেক আগে গরুর মাংসের বাজারে অভিযান চালানো হলেও এখন তা বন্ধ হয়ে গেছে। মাংসের দাম বাড়ানোর কোনো যুক্তি নেই। কমে গরু পাচ্ছি, তাই কমেই খাওয়াচ্ছি। এখন ৭০০ টাকায় মাংস বিক্রি করলে ভোক্তার ওপর জুলুম হবে। গ্রামের অনেক হাট কসাইদের দখলে। তারা বলছে, ৭০০ টাকার ওপরে মাংস বিক্রি করতে না পারলে হাটে আসবি না।’

উজ্জ্বল আরও বলেন, ‘মহল্লার মধ্যে আমার ছোট দোকান। কিন্তু আমাকে যদি আশপাশের ব্যবসায়ীরা ফোন করে হুমকি দেয়, তাহলে কীভাবে চলব? ইদানীং বড় বড় ব্যবসায়ীও হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে আমাদের কারণে মাংসের দাম বাড়ছে না। আমরা কম দামে বিক্রি না করলে মাংসের দাম ৯০০ টাকা হতো। প্রতিবছর ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাংসের দাম ৯০০ টাকা থাকে। এবার বাড়াতে পারেনি।’

অনেকেই বলছেন গরুর দাম এখন বেশি– এ প্রসঙ্গে উজ্জ্বল বলেন, ‘এটা মিথ্যা কথা। খামার কিংবা হাটে গরুর অভাব নেই। দানাদার খাদ্যের দাম বাড়ায় খামারিরা এখন প্রাকৃতিকভাবে ঘাস চাষে মনোযোগ বাড়িয়েছেন। তাতে তাদের উৎপাদন খরচ অনেকটা কমে গেছে। খামারিদের খরচ কমায় তারা কম দামে গরু বিক্রি করেও সন্তুষ্ট রয়েছেন, বাজারে দামও কমে এসেছে।’ শৃঙ্খলা ফেরাতে মান অনুযায়ী মাংসের দাম নির্ধারণ ও শক্ত হাতে বাজারে নজরদারির দাবি জানান এ ব্যবসায়ী। 


মন্তব্য