মোদি ম্যাজিকে ধস! জোটের ওপর ভরসা করতে হতে পারে মোদিকে!

নির্বাচন
  © সংগৃহীত

২০১৪ সালের পর থেকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এক দশক ধরে ক্ষমতায় রয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। তবে এক দশক পরে আবার একদলীয় শাসনের ইতি হতে চলেছে ভারতে! সেই সঙ্গে অষ্টাদশ লোকসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফিরতে চলেছে বিরোধী দলনেতার পদ। মঙ্গলবার (০৪ জুন) দুপুর পর্যন্ত ভোটগণনার ঘোষিত ফলাফল এবং প্রবণতা এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তৃতীয়বারের জন্য নরেন্দ্র দামোদর দাসের হাতেই দেশের ভার দিতে চলছে জনতা। তবে ভোটগণনার প্রবণতা বলছে, ২০১৪ এবং ২০১৯-এর মতো এবার আর সংসদের নিম্নকক্ষে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না তাঁর দল বিজেপি। ‘৪০০ পার’ দূরের কথা, আড়াইশো পার করাও কঠিন হতে চলেছে বিজেপির শিবিরে। ৫৪৫ আসনের (দু’টি মনোনীত আসন-সহ) লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২৭৩টি। প্রবণতা অনুযায়ী বিজেপির দৌড় আড়াইশোর আগেই থেমে যেতে পারে!

অর্থাৎ, কেন্দ্রে সরকার গড়ার জন্য টিম মোদীকে নির্ভর করতে হবে এনডিএ-র দুই শরিক, চন্দ্রবাবু নায়ডুর তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি) এবং নীতীশ কুমারের জেডিইউ-এর ওপর। ঘটনাচক্রে, অতীতে ওই দুই নেতারই একাধিক বার এনডিএ ত্যাগের এবং প্রত্যাবর্তনের ইতিহাস রয়েছে। দেশের ইতিহাসে মোদীই হতে চলেছেন দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী, যিনি পর পর তিনবার ক্ষমতায় বসছেন। কিন্তু এক্ষেত্রে জওহরলাল নেহরুর মতো পর পর তিনবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতা দখলের রেকর্ড করা সম্ভবত হচ্ছে না তাঁর। যদিও প্রধানমন্ত্রী নিজে একাধিকবার দাবি করেছিলেন, এককভাবে বিজেপি ৩৭০ আসনে জিতবে। তাদের নির্বাচনের স্লোগানও ছিলো 'আব কি বার, চারশো পার'।

অন্যদিকে, এই লোকসভা নির্বাচন জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের প্রাসঙ্গিকতা ফিরিয়ে আনতে পারে বলে গণনার ইঙ্গিত মিলছে। বিরোধী দলনেতার পদের জন্য লোকসভায় ৫৫টি আসনে জেতা প্রয়োজন। কিন্তু ২০১৪-য় ৪৪ এবং ২০১৯-এ ৫২টি আসনে জেতা কংগ্রেস সংসদীয় বিধি অনুযায়ী সেই মর্যাদা পায়নি। এবার ভোটগণনার প্রবণতা বলছে ৯০ থেকে ১০০টির মধ্যে আসন জিততে পারে মল্লিকার্জুন খড়্গের দল। ‘ইন্ডিয়া’র সব সহযোগী দল মিলে দু’শোর গণ্ডি টপকাতে চলেছে। ফলে লোকসভার অধিবেশনেও এবার বিরোধীদের কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে মোদীকে।

আনন্দবাজার পত্রিকার আপডেট তথ্যে দেখা যাচ্ছে, মোট ৫৪৩ আসনের মধ্যে বিজেপি ২৪৪ আসনে এগিয়ে, কংগ্রেস ৯৮ আসনে এবং অন্যান্য পার্টি ২০১টি আসনে এগিয়ে।


মন্তব্য