আগুনে সব হারিয়ে স্তব্ধ বাসাবাড়িতে কাজ করা শামসুন্নাহার

জাতীয়
  © সংগৃহীত

শামসুন্নাহার রাজধানীর কড়াইল বস্তির বাসিন্দা। কিছুদিন আগে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন৷ এখন স্বামী ও ছোট ছেলেকে নিয়ে তার সংসার। নিজে মানুষের বাসাবাড়িতে কাজ করেন। স্বামী সিটি করপোরেশনের ময়লা পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত। দুজনে যা উপার্জন করেন সংসার খরচ মিটিয়ে তা থেকেই কিছু সঞ্চয় করেছিলেন। কিন্তু সর্বগ্রাসী আগুনে তাদের জমানো টাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

রোববার (২৪ মার্চ) বিকেলে কড়াইল বস্তিতে লাগা আগুনে নিজেদের কাপড়-চোপড়, ছেলের বই ও কষ্টের জমানো অর্থ সব পুড়ে গেছে৷ সর্বস্ব খুইয়ে এখন চোখে অন্ধকার দেখছে পরিবারটি।

শামছুন্নার বলেন, ‘আমাগো আর কিছু রইলো না৷ কী নিয়া বাঁইচা থাকমু৷ পোলাডা মাদরাসায় পড়ে৷ ওর বই-খাতা পুড়ে ছাই৷ নিজেগো খ্যাতা-বালিশও কিচ্ছু নাই৷ রাইতে থাকনের জায়গাটুকুও শ্যাষ হয়ে গেল৷ এহন এক কাপড়ে দাঁড়ায়ে আছি, ক্যামনে বাঁচমু৷’

কথাগুলো বলতে বলতে বারবার কান্নায় মুর্ছা যাচ্ছিলেন শামসুন্নাহার৷ কড়াইল বস্তিতে লাগা আগুনে প্রায় ৫০০ পরিবারের ঘর পুড়ে ছাই হয়েছে৷ আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও বস্তিজুড়ে পড়ে আছে শুধুই পোড়া টিন আর ইট।

রোববার বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে কড়াইল বস্তিতে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। পরে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিটের চেষ্টায় বিকেল ৪টা ৩৩ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই বস্তির অনেক ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও হতাহতের কোনো তথ্য জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।


মন্তব্য