অবৈধভাবে ইউরোপ যাত্রায় ভূমধ্যসাগরে মৃতদের ১২ ভাগই বাংলাদেশি: আইওএম

ভূমধ্যসাগর
  © ফাইল ছবি

অবৈধভাবে ইউরোপে যেতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে মারা যাওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ১২ শতাংশই বাংলাদেশি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। সংস্থাটির ২০২৪ সালের বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। 

আজ মঙ্গলবার (৭ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে এই প্রতিবেদন তুলে ধরেন আইওএমের মহাপরিচালক এ্যামি পোপ। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী ২৮১ মিলিয়ন অভিবাসীর সাথে, বাস্তুচ্যুতদের সংখ্যা ২০২২ সালের শেষে ১১৭ মিলিয়ন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২০০০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স বেড়েছে ৬৫০ শতাংশ। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের কারনে বাস্ত্যচ্যুতির তালিকায় এশিয়ায় বাংলাদেশ পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে। এরমধ্যে শুধু ২০২২ সালেই দুর্যোগের কারণে বাংলাদেশে ১৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।  

বার্ষিক প্রতিবেদনে আইওএম জানায়, ১২৮ বিলিয়ন ডলার থেকে অভিবাসী আয় ৮৩১ বিলিয়ন ডলারে পৌছেছে। রেমিট্যান্স উন্নয়নশীল দেশগুলোর জিডিপি বৃদ্ধিতে বিদেশী বিনিয়োগকে ছাড়িয়ে গেছে। 

অনুষ্ঠানে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। তাই সন্ত্রাসবাদ, মানবপাচার ও মাদকের দিক দিয়ে চ্যালেঞ্জে আছে বাংলাদেশ।’

এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রত্যাশা করেন, দ্রুতই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে জোরালো ভূমিকা রাখবে আইওএম।

সম্প্রতি অবৈধভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টার সময় তিউনিসিয়ার উপকূলে নৌকাডুবিতে ৮ বাংলাদেশি নিহত হন। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি লিবিয়ার জোয়ারা উপকূল থেকে নৌকাটি ডুবে যাওয়ার সময় এতে ৫৩জন আরোহী ছিলেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৪৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে ২৭ জন ছিলেন বাংলাদেশি। অন্যান্যদের মধ্যে পাকিস্তানের ৮ জন, সিরিয়ার ৫ জন, মিশরের ৩ জন নাগরিক ছিলেন। নৌকাটির চালককেও এ সময় উদ্ধার করা হয়। 

এ ঘটনায় নিহত ৯ জনের মধ্যে ৮ জনই বাংলাদেশি। আর অন্য একজন পাকিস্তানের নাগরিক। 


মন্তব্য