ঈদযাত্রায় নিহতদের ৪০ শতাংশ মোটরসাইকেল আরোহী!

দুর্ঘটনা
  © ফাইল ফটো

ঈদের সময় এলেই মানুষের বাড়ি যাওয়ার চাপ বেড়ে যায়, এই কারণে রাস্তায় গাড়ির সংখ্যাও অনেক বেশি থাকে। এর ফলে যেখানে সেখানে প্রায়ই দুর্ঘটনায় মতো ঘটনা দেখা যায়।

ঈদুল আজহার আগে-পরে ১১ জুন থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত ১৩ দিনে দেশে ২৫১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৬২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫৪৩ জন। নিহতের মধ্যে নারী ৩২ ও শিশু ৪৪ জন। ১২৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১০৪ জন, যা মোট নিহতের ৩৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৫১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। 

দুর্ঘটনায় ৪৯ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ১৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ২৮ জন, অর্থাৎ ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ। দুর্ঘটনায় মানব সম্পদের ক্ষতি হয়েছে ৯ শ ৯৮ কোটি ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকার।

এই সময়ে ৭টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত এবং ৩ জন আহত হয়েছেন। ১৬টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত এবং ৮ জন আহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

যানবাহনভিত্তিক নিহতের চিত্র
দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১০৪ জন (৩৯.৬৯%), বাসযাত্রী ১১ জন (৪.১৯%), ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি আরোহী ১৫ জন (৫.৭২%), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স আরোহী ২৪ জন (৯.১৬%), থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান- লেগুনা-টেম্পো) ৪৫ জন (১৭.১৭%), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-করিমন-ভটভটি-পাওয়ারটিলার) ৯ জন (৩.৪৩%) এবং বাইসাইকেল আরোহী ৫ জন (১.৯০%) নিহত হয়েছে।

দুর্ঘটনা সংঘটিত সড়কের ধর
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ৯৭টি (৩৮.৬৪%) জাতীয় মহাসড়কে, ৯১টি (৩৬.২৫%) আঞ্চলিক সড়কে, ২৮টি (১১.১৫%) গ্রামীণ সড়কে, ৩২টি (১২.৭৪%) শহরের সড়কে এবং ৩টি (১.১৯%) অন্যান্য স্থানে সংঘটিত হয়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন
দুর্ঘটনাসমূহের ৬৪টি (২৫.৪৯%) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১০৩টি (৪১.০৩%) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৪৯টি (১৯.৫২%) পথচারীকে চাপা কিংবা ধাক্কা দেওয়া, ২৭টি (১০.৭৫%) যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ৮টি (৩.১৮%) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহন
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে,  ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ড্রাম ট্রাক-ট্রলি-কার্গো ট্রাক-ট্যাংক-লরি ১৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ১৩ দশমিক ৩২ শতাংশ, প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ ৭ দশমিক ৩১ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা-টেম্পো) ১৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন-করিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র-ঢালাই মেশিন গাড়ি-পাওয়ার টিলার) ৮ দশমিক ০৬ শতাংশ, বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং অজ্ঞাত গাড়ি ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ৫৩৩টি। এর মধ্যে বাস ৭১টি, ট্রাক ৫২, কাভার্ডভ্যান ১০, পিকআপ ১৩, ট্রাক্টর ৮, ড্রামট্রাক ৯, ট্রলি ৩, কার্গো ট্রাক ২, ট্যাংক লরি ২, মাইক্রোবাস ১৬, প্রাইভেটকার ১৮, অ্যাম্বুলেন্স ২, জিপ ৩, মোটরসাইকেল ১৩৮, থ্রি-হুইলার ১০৬ (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা-টেম্পো), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৪৩ (নসিমন-করিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র-ঢালাই মেশিন গাড়ি-পাওয়ারটিলার), বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা ১৯ এবং অজ্ঞাত গাড়ি ১৮টি।

দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণ
সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনাসমূহ ঘটেছে ভোরে ৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ, সকালে ২৩ দশমিক ১০ শতাংশ, দুপুরে ২৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ, বিকেলে ১৭ দশমিক ১৩ শতাংশ, সন্ধ্যায় ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং রাতে ২০ দশমিক ৩১ শতাংশ।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪০ দশমিক ৯০ শতাংশ, মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটেছে ২৭ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং অন্য যানবাহন দ্বারা মোটরসাইকেলে চাপা/ধাক্কায় দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩১ দশমিক ৮১ শতাংশ।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ২৮ দশমিক ৩৫ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ১৭ বছর। ৪৭ দশমিক ৭৬ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছর এবং ২৩ দশমিক ৮৮ শতাংশের বয়স ৩৬ থেকে ৬০ বছর।

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান
দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ২৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ, প্রাণহানি ২৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১৫ দশমিক ১৩ শতাংশ, প্রাণহানি ১২ দশমিক ৯৭ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ১৭ দশমিক ৯২ শতাংশ, প্রাণহানি ১৪ শতাংশ।


মন্তব্য