এবারের হজে মারা গেছেন ১৩০১ জন

হজ
  © গেটি ইমেজ

প্রতি বছর লাখ লাখ মুসলমান সৌদি আরবে হজ পালন করতে যান। তবে এবছরটা বাড়তি শোকাবহ হয়ে উঠেছে বহু মুসল্লির মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে।

সৌদি আরবের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এই বছর হজ পালন করতে গিয়ে ১৩০১ জন হাজির মৃত্যু হয়েছে। অনুমোদন ছাড়া হজে অংশ নেয়া, তীব্র সূর্যতাপ ও গরমের মধ্যে যথেষ্ট বিশ্রাম ছাড়া লম্বা দূরত্বে হাঁটার কারণে বেশিরভাগ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

আর্থিক ও শারীরিকভাবে সক্ষম মুসলমানদের জন্য ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার এই যাত্রা শেষ হয়েছে বুধবার।

যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের নাগরিক রয়েছেন।

এবার হজে মারা যাওয়া হজযাত্রীদের অনেকেই পর্যাপ্ত আশ্রয় ছাড়াই সরাসরি সূর্যের আলোতে দীর্ঘপথ হেঁটেছেন বলে জানান সৌদি আরবের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফাহাদ-আল-জালাজেল।

সৌদি বার্তাসংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, যারা মারা গেছে তাদের মধ্যে তিন চতুর্থাংশের সেখানে থাকার অনুমতি ছিল না। এছাড়া যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে কয়েকজন বয়স্ক ছিলেন। 

এবার হজ মৌসুমে সৌদি আরবে তাপমাত্রা ৫১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছিল। এ পরিস্থিতিকেই এসব হজযাত্রীর মৃত্যুর একটা বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় উচ্চতাপ ও পানিশূন্যতা এড়াতে সতর্কতা জারি করলেও অনেক হাজি তীব্র গরমে হাঁসফাঁস অবস্থায় হিটস্ট্রোকের শিকার হয়েছেন। নিহত এসব হজযাত্রীরা ১০টি দেশের নাগরিক যাদের মধ্যে মিসর থেকে হজ পালন করতে আসা মানুষের সংখ্যা সর্বাধিক। 

প্রচণ্ড গরমের মধ্যেই হাজিরা প্রায়ই দীর্ঘ পথ হাঁটতে বাধ্য হয়েছেন। এজন্য অনেকে বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা আটকে দেওয়া এবং খারাপ পরিবহন ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন।

এছাড়া অনেক হাজিই পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা পাননি বলে জানা গেছে। অনেকে বলছেন, যারা তীব্র গরমে ক্লান্তি বা অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগেছেন, তাদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স বা প্রাথমিক চিকিৎসা লাভের উপায় সহজ ছিল না।

এদিকে, সৌদি কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী, হজ করতে একজন হাজিকে একটি বিশেষ হজ ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়। কিন্তু, কিছু ব্যক্তি ভ্রমণ ভিসায় সৌদিতে প্রবেশ করে অবৈধভাবে হজ করতে চান। এই ‘অনুমোদনহীন হজযাত্রী’ সমস্যা অতিরিক্ত মৃত্যুর জন্য দায়ী বলে মনে করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।


মন্তব্য