তারুণ্যের ভাবনায় স্বাধীনতা

পবিপ্রবি
  © ফাইল ছবি

স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে ৫৪ বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বর্তমান বাংলাদেশ এগোচ্ছে স্মার্ট বাঙালি জাতি গড়ার প্রত্যয় নিয়ে। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করা হয়েছে। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার মুখ্য ভূমিকা যারা পালন করবে, যাদের হাতে অর্পিত স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম; সেই তরুণ সমাজ কী ভাবছে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস নিয়ে। স্বাধীনতার মাসে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন তাদের ভাবনার কথা৷ তুলে ধরেছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলাম। 


বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মুক্তা খাতুন স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে  বলেন, "শুধু ভিক্ষা করে কখনো স্বাধীনতা লাভ করা যায় না। স্বাধীনতা অর্জন করতে হয় শক্তি দিয়ে, সংগ্রাম করে।"- আমরাও স্বাধীনতা অর্জন করেছি শক্তি দিয়ে,সংগ্রাম করে। আজ ২৬ মার্চ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস। বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫৪ বছরে পদার্পণ করেছে। আজ স্বাধীনতার ৫৪ বছরে এসেও কি আমরা স্বাধীনতার প্রকৃত মানে খুঁজে পেয়েছি? আমরা স্বাধীনতার এতগুলো বছর পরও কেন বাংলার অগনিত মানুষের দুঃখ-যতনা,ব্যর্থতা-হতাশা,দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিতে পারি নি। স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে,স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন। আমাদের স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আমাদের সোনার বাংলার স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে। বঞ্চনা, অন্যায়, বৈষম্য, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদী ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। দেশের প্রতিটি সেবাখাত দুর্নীতিমুক্ত করতে পারলে, বাংলাদেশ একদিন রোল-মডেল হবে এবং বিশ্বেনেতৃত্বের এক স্বাধীন দেশ হিসেবে অংশীদার হবে। তাই আমাদের সবাইকে দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নে এবং দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির উদ্দেশ্য কাজ করতে হবে তবেই স্বাধীনতা রক্ষা করতে সক্ষম হব।"


সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী পবিত্র কুমার মাহাতো স্বাধীনতা ও মুক্তির বার্তার বর্ণনায় বলেন, "স্বাধীনতা বলতে মুক্তভাবে বেড়ে উঠা, অবাধ বিচরণ আর মতপ্রকাশকের স্বাধীনতাকেই বুঝি। বাঙালির স্বাধীনতা যুদ্ধ তথা রাষ্ট্র গঠনের স্তম্ভই ছিল জাতীয়তাবাদ, গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। এই ভিত্তিগুলোকে প্রধান করেই দীর্ঘ ন’মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের মহান স্বাধীনতা অর্জিত হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের যে অশুভ শক্তি, স্বাধীনতা অর্জনের পথে বাঁধা সৃষ্টি করেছিল, সেই অশুভ শক্তি, যেন এই স্বাধীন ভূখণ্ডে তাদের প্রভাব ও প্রতিপত্তি বাড়িয়েই চলছে। 'ধর্মনিরপেক্ষতা' নীতিকে পদদলিত করতে, প্রতিনিয়ত সাম্প্রদায়িকতার যে বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিচ্ছে। ধর্মকে মুখ্য করে সংখ্যালঘু মেরুকরণে তাদের কার্যক্রম বাড়িয়েই চলছে।  এই মহান স্বাধীনতা দিবসে আমার চাওয়া, যে মূল স্তম্ভ হৃদয়ে ধারণ করে দেশ স্বাধীন হয়েছিল সেই জাতীয়তাবাদের পূর্ণ বিকাশ হোক, গণতন্ত্রের সুব্যবহার হোক, ক্ষুধা মুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প মুক্ত, সুখী, সমৃদ্ধ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে উঠুক।"


ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাজ্জাদুল ইসলাম স্বাধীনতার তাৎপর্য নিয়ে বলেন, "স্বাধীনতা পাঁচটি বর্ণমালার কোনো সাধারণত শব্দ নয়।স্বাধীনতা রক্ষার জন্য স্বাধীনতাকে মর্যাদা দিতে হয় এবং সদা সতর্ক থাকতে হয়। তাই স্বাধীনতার মর্ম উপলব্ধি করে একে রক্ষা করা আমাদের সবার  জাতীয় কর্তব্য বলে মনে করা উচিত।শুধু জাতীয় দিবস গুলোর ন্যায় এই দিবসটিকেও আমরা একদিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখি,কিন্তু স্বাধীনতা অর্জন করতে গিয়ে যে ত্যাগ তিতিক্ষা স্বীকার করতে হয়েছিল ত্রিশ লক্ষ বীর শহীদের  সেটার কথা হয়তো আমরা অনেকে ভুলেই যাই।ত্রিশ লক্ষ বীর শহীদের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতাকে  রক্ষার জন্য আমাদের সকলকে সোচ্চার হতে হবে।বীর সেনারা যেমন মাতৃভূমির জন্য তাদের জীবনটাকে বিলিয়ে দিয়েছিল, সেই চেতনাকে লালন করে আমরা আমাদের মাতৃভূমির জন্য আমাদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে আমাদেরকে দেশকে পৃথিবীর বুকে অনন্য হিসেবে তুলে ধরতে সর্বাত্বক প্রচেষ্টা করা উচিত বলে মনে করি। তাই স্বাধীনতা দিবসে সকলের এই প্রতিজ্ঞা করা উচিত,"স্বাধীনতা দিবসের চেতনাকে লালন করি,স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিজেকে নিয়োজিত করি"।


পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার ছন্দা স্বাধীনতা দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে বলেন," ২৬ শে মার্চ আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবস।অনেক ত্যাগ - তিতিক্ষার বদৌলতে পাওয়া অবিস্মরণীয় এ দিনটির তাৎপর্য বাঙালিদের জীবনে অপরিসীম।কেননা, এ দিনটির জন্য বাঙালিদের চরম মূল্য দিতে হয়েছে।২৬ শে মার্চ বাঙালির আত্মত্যাগ ও বেদনায় মহীয়ান একটি দিন। এ দিনের পেছনে রয়েছে অনেক করুন ও নিঃস্ব হবার গল্পঃ,রক্তাক্ত ইতিহাস। যার কল্যাণে ও অবদানে এ দিনটি আমরা পেয়েছি,জাতি হিসেবে আমরা স্বাধীন হয়েছি -তিনি হলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ইনিই সেই স্বপ্নদ্রষ্টা,মহানায়ক যিনি আমাদের এই স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার দিয়ে গিয়েছেন।স্বাধীনতা শব্দটি শুধু ৪/৫ টি অক্ষরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।শব্দটি অনেক ভারী,দামী।স্বাধীনতা অর্জন করা যেমন কঠিন,তেমনি স্বাধীনতা রক্ষা করাও নেহাতই সহজ কোনো বিষয় নয়।তাই আমাদের এই ব্যাপারে সচেষ্ট হতে হবে।নইলে আবার আমাদের মুখ থুবড়ে পড়তে হবে পরাধীনতার কবলে।তাই ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে এ দিবসকে উদযাপন করার পাশাপাশি এ দিবসের গুরুত্ব মনে ধারণ করতে হবে।প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে দেশ ও দশের কল্যাণে এক হয়ে কাজ করতে হবে।তবেই অক্ষুণ্ণ থাকবে আমাদের স্বাধীনতা,জাতি হিসেবে আমরা হবো সফল ও গর্বিত।"

 

লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদাউস স্বাধীনতা অর্জনে যাদের আত্মত্যাগ রয়েছে তাদের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন," ২৬ শে মার্চ আমদের বাংলাদেশিদের কাছে স্বাধীনতা দিবস । কিন্তু এই স্বাধীনতা দিবস পেতে বাংলাদেশিদের কত কাঠ খড় পোড়াতে হয়েছে তা ইতিহাস ভালো করেই জানেন।স্বাধীনতা এমন একটা জিনিষ যা ত্যাগ, তিতিক্ষা ও কোটি কোটি প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। যেখানে একটা পাখি খাঁচায় বন্দি থাকলে মুক্ত হওয়ার জন্য পাগল প্রায় হয়ে যায় সেখানে সাড়ে সাত কোটি বাঙালি স্বাধীনতার জন্য কত ত্যাগ স্বীকার করেছেন তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। বাঙালিরা সেকেলের থ্রি নট থ্রি রাইফেল আর সামান্য অস্র নিয়ে এই দেশকে মুক্ত করেছে, পরাধীনতার শিকল ভেঙে ছিনিয়ে এনেছে নতুন সূর্যের আলো। ছোট একটা পিঁপড়াও স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে চায়। আজ স্বাধীনতার ৫৩বছর পর ও আমরা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে পারি এই পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে বের হওয়ার জন্য আমাদের পূর্ব পুরুষদের কতই না গ্লানি আর কষ্ট সহ্য করতে হয়েছিল। স্বাধীনতার পিপাসায় তাঁরা কতই না কাতর ছিল আর আমাদের দিয়ে গেছে অমূল্য রতন। বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলে অপব্যাখ্যা দেয়া ব্যক্তিত্ব বর্গরাই আজ এই দেশকে অনুন্নত থেকে উন্নয়নশীল ও সম্ভাবনাময় হিসাবে আখ্যা দিচ্ছেন। স্বাধীনতার ৫৩বছরেই আমাদের যত অর্জন তাতে আমরা (বাংলাদেশ) দ্রুত সফলতার উঁচু স্তরে প্রবেশ করতে পারবো সেই অঙ্গীকার ব্যক্ত করে স্বাধীনতা দিবসকে (২৬শে মার্চ) গভীরভাবে স্মরণ করছি।"


এদিকে সমাজকর্ম বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী ভাস্কর চন্দ্র রায় স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, "মানুষ জন্মগত ভাবেই স্বাধীন ভাবে বাঁচতে চায়।১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পরাধীনতার মঞ্চে থেকে তিক্ত হয়ে ২৬ মার্চ এদেশ ও দেশের মানুষকে মুক্ত করার লক্ষে মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা দেন।নিরলস প্রচেষ্টা আর লক্ষ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে এদেশকে স্বাধীনতা লাভ করে।আজ এদেশের মানুষ স্বাধীন হিসেবে বেঁচে থাকতে পারে।মাতৃভাষায় আমাদের জ্ঞানের সমুদ্র থেকে অনায়াসে নিজের প্রতিভা গুলো বিকশিত করতে পারে।পরাধীনতা অবস্থায় যা কিছু আমাদের প্রতিভা বিকাশে বিন্দু মাত্র সুযোগ পাইনি, এখন তা অনায়াসে এদেশ ও জাতির মধ্যে বিলিয়ে দিতে পারি।এই স্বাধীনতাকে উদ্দেশ্য করে বলতেই হয় --
      আমি জন্মেছি এক শস্য-শ্যামলা 
               সবুজ প্রকৃতির পটভূমিতে
             আমি জন্ম নিয়েছি  
           এক বীরের দেশে
         বীর যোদ্ধা বেশে
      বীর সন্তান রুপে।।"


মন্তব্য