সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে

বিচারাধীন জমিতে জোরকরে গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে

সিরাজগঞ্জ
গাছ ও মাটি কাটার ছবি  © টিবিএম

সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার গান্ধাইল ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের আলতাফ হোসেন খন্দকার এর পুত্র মোঃ আঃ হামিদ। তিনি একজন ভ্যান গাড়ি চালক। আঃ হামিদ তার মায়ের মৃত্যুর পর স্ত্রীর সিকি অংশ তার বাবা তার নাতিকে দলিল করে দেন। দানপত্র দলিল করার কথা বলে দলিল লেখক ভুল বুঝিয়ে বিক্রি দলিল করে দেন। আলতাফ হোসেন খন্দকার তার নাতি মোঃ রাশিদুল ইসলামকে যখন দলিল করে দেন তখন রাশিদুল নাবালক ছিল। তাই তার পক্ষে জমি কেনার সামর্থ  ছিলনা। যে জমি দাদা নাতিকে দলিল করে দেন সেই জমি বাড়ি ছিল কিন্তু খতিয়ানে ফসলি লেখা ছিল। যেহেতু আরএস রেকর্ডের পরে বাড়ি হওয়ায় বাড়ি হিসেবে রেকর্ড হয় নাই। 

এই সুযোগে আঃ হামিদের আপন মামা হাবিবুর রহমান এই দলিলের বিরুদ্ধে প্রিয়ামশন মামলা দায়ের করে কাজিপুর উপজেলা সহকারী জজ আদালতে। সেই মামলায় হাবিবুর রহমানের পক্ষে বিজ্ঞ আদালত ফসলি হিসেবে রায় দেন।

এই রায়ের বিরুদ্ধে রাশিদুল ইসলাম নাবালক পক্ষে পিতা মোঃ আঃ হামিদ বিজ্ঞ জেলা ও দায়র জজ আদালতে আপিল করেন। সেই আপিলেও  বিজ্ঞ আদালত আগের রায় বহাল রাখেন। এতে আঃ হামিদ মহামান্য হাইকোর্টে রায়ের বিরুদ্ধে রিভিশন করেন। মহামান্য হাইকোর্ট রিভিশন গ্রহণ করে নিম্ন আদালতের রায় ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন।

তারপরও হাবিবুর রহমান দলবল নিয়ে বিচারাধীন জমিতে থাকে কয়েক লক্ষ টাকার গাছ জোর করে কেটে নেন। এতে করে আঃ হামিদের অপূরনীয় ক্ষতি হয়। শুধু তাই নয় আঃ হামিদ বাড়ি থেকে রাস্তায় আসতে যে রাস্তা ব্যবহার করেন সেটা কামলা দিয়ে কেটে বিশাল গর্ত করেন। এখন বাড়িতে ভ্যান নিয়ে আসা যাওয়া করা সম্ভব নাহওয়ায় অন্য গ্রামে ভ্যান রাখতে  হচ্ছে। 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে ফোনে পাওয়া যায়নি। আঃ হামিদ অসহায় দূর্বল হওয়ার কারণে তার পক্ষে  বাধা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। কাজিপুর কোর্টে মামলা নম্বর ১/১৫,  জজ কোর্টে মামলা নম্বর ১৭/১৯ এবং সর্বশেষ হাইকোর্টে রিভিশন মামলা নম্বর ২১৫৪/২৪। যা বর্তমানে বিচারাধীন আছে। 

এ বিষয়ে সচেতন মহলের মতে বিচারাধীন বিষয় চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে কোন পক্ষেরই উচিত হবে না বিরোধ পূর্ন জমিতে কোন কিছু করা। তাই মহামান্য হাইকোর্টের অর্ডার অমান্য করে হাবিবুর রহমানের গাছ কাটা ঠিক হয় নাই। এটা আদালত অবমাননার শামিল।


মন্তব্য