ইসরায়েলকে শাসালেন বাইডেন; গুরুত্ব দিচ্ছেন না নেতানিয়াহু!

বাইডেন-নেতানিয়াহু
  © ফাইল ছবি

প্রথমবারের মতো ইসরায়েলকে শাসালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বুধবার (০৮ মে) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইসরায়েল যদি দক্ষিণ গাজার রাফা শহরে আক্রমণ চালায় তবে তিনি তাদের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে দেবেন। হামাসের সঙ্গে সংঘাত চলাকালীন প্রথমবারের মতো এটাই ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা। খবর এএফপির।

সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মার্কিন বোমা নিক্ষেপের ফলে বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনারও নিন্দা জানিয়েছেন বাইডেন।

মিশরীয় সীমান্তের কাছে অবস্থিত রাফা শহরে আশ্রয় নিয়েছে লাখ লাখ অসহায় ফিলিস্তিনি। তাদের এখন আর কোথাও যাওয়ার মতো জায়গা নেই। গাজার এমন কোনো স্থান বাকি নেই যেখানে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালায়নি। এখন যদি ইসরায়েল রাফায় পূর্ণ মাত্রায় হামলা চালায় তবে আশ্রয়হীন এসব মানুষ কোথায় যাবে?

রাফা শহরে ইসরায়েল বড় ধরনের হামলা চালাতে প্রস্তুত এমন উদ্বেগ থেকে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলে বোমার একটি চালান বন্ধ করার পরেই নতুন করে সতর্কবার্তা দেওয়া হলো।

ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বাইডেন বলেন, যদি তারা রাফায় হামলা চালায় তবে আমি তাদের অস্ত্র সরবরাহ করবো না। রাফায় হামলা চালানোর জন্য যেসব অস্ত্র এবং কামানের গোলা ব্যবহার করা হয়েছে তা সরবরাহ করব না।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি রাফায় আক্রমণ করবেন। ব্যক্তিগতভাবে বেশ কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন এ বিষয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একমত নন। তিনি রাফায় হামলা চালানোর পক্ষপাতি নন।

ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসন এবং নিজ দলের মধ্যেও বাইডেনের ওপর চাপ বাড়ছে। সে কারণেই গত সপ্তাহে অস্ত্রের এক চালান ইসরায়েলে পাঠানো হয়নি।

এ বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এপি জানান, বোমার একটি চালান ইসরায়েলে পাঠানো হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই কর্মকর্তা বলেন, গত সপ্তাহে ওই চালানটি না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

এছাড়া পরবর্তী তারিখে অস্ত্র হস্তান্তরের যে প্রতিশ্রুতি ছিল তা সময় অনুযায়ী পাঠানো হবে কিনা সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা গত সপ্তাহে অস্ত্রের একটি চালান স্থগিত করেছি।

কয়েক সপ্তাহ ধরেই রাফায় অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়ে আসছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের অভিযানে সেখানে মানবিক বিপর্যয় তৈরি হতে পারে বলে শুরু থেকেই সতর্ক করছে জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

এদিকে যুদ্ধবিরতি আলোচনা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফায় দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আরও ৫৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বুধবার (৮ মে) এ তথ্য জানায় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ এবং হামাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে নেওয়ার ঘোষণা উপেক্ষা করে মঙ্গলবার মিসর সীমান্তবর্তী রাফা ক্রসিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নেয় ইসরায়েলি বাহিনী। পরে রাফার পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলসহ গাজার বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় হামলা চালানো হয়।

এদিকে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় অংশ নিতে মিসরের রাজধানী কায়রোয় অবস্থান করছে ইসরায়েল ও হামাস প্রতিনিধিদল। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনায় সমঝোতার তেমন ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না।

মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু করে বুধবার সকাল পর্যন্ত রাফাসহ গাজার বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বিধ্বস্ত গাজা নগরীর একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে এক হামলায় একই পরিবারের সাতজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। আল-আহলি হাসপাতাল এসব কথা জানিয়েছে।

ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, মধ্য রাফার কয়েকটি আবাসিক ভবনে গোলাবর্ষণ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে এসব ভবনে আগুন ধরে যায়। অগ্নিনির্বাপণ দল ছুটে গেলেও অব্যাহত গোলাবর্ষণের কারণে আগুন নেভাতে তাদের হিমশিম খেতে হয়।

এক বিবৃতিতে রাফাসহ গাজার ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাফার পূর্বাঞ্চলে চালানো হামলায় হামাস যোদ্ধা নিহত ও তাদের সামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে।

ইসরায়েলের হামলার মুখে মরিয়া হয়ে রাফা ছাড়ছেন ফিলিস্তিনিরা। তাদের অনেকেই দেইর আল-বালাহ এলাকায় তাঁবু টানিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত ৭ মাসের অধিক সময় ধরে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় নির্বিচারে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার ইসরায়েল। তাদের নৃশংস হামলায় এখন পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৮৪৪ জন নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৭৮ হাজারের অধিক ফিলিস্তিনি।


মন্তব্য